scorecardresearch
 

স্ত্রীর বদলে স্বামী, স্বামীর বদলে স্ত্রী কিংবা ভ্রাতৃবধূ, শিলিগুড়ি পুরভোটে অন্য লড়াই

পরিবারেই থাকবে কাউন্সিলর পদ? সেই লক্ষ্যেই শিলিগুড়িতে পুরভোটে পাঁচ ওয়ার্ডে লড়বেন বিদায়ী কাউন্সিলরের স্ত্রী বা স্বামী। একটি ওয়ার্ডে লড়বেন প্রয়াত কাউন্সিলরের ভ্রাতৃবধূ।

শিলিগুড়ি পুরনিগম-ফাইল ছবি শিলিগুড়ি পুরনিগম-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • দুই প্রয়াত কাউন্সিলরের অবর্তমানে ভোট
  • পাঁচ ওয়ার্ডে পুরনো কাউন্সিলরের বাড়িল লোক
  • একটি ওয়ার্ডে শুধু লড়বেন ভ্রাতৃবধূ

কথায় আছে ঘরের সম্মান বাঁচে স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর কো-অর্ডিনেশনে। শিলিগুড়ি পুরভোটে এবার সে কথা ভীষণভাবে সামনে চলে আসছে। সংরক্ষণের গেরোয় স্ত্রীর বদলে স্বামী, স্বামীর বদলে স্ত্রীরা দাঁড়িয়ে পড়েছেন। প্রচার? একসঙ্গে যাচ্ছেন জোড়ায় জোড়ায়। হাতজোড় করে বলছেন, "একই ব্যাপার। ভোট যেই চান না কেন, একই বাড়িতে যাবে। এফেক্ট! একই।"

পারিবারিক লড়াই

শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনের লড়াইয়ে এবার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের স্বামী ও স্ত্রীরা ময়দানে নেমে পড়েছেন। শুধু একটি ওয়ার্ডে লড়ছেন প্রাক্তন কাউন্সিলরের ভ্রাতৃবধূ। বাকিরা হয় স্বামী না হয় স্ত্রী। এবারের পুরনির্বাচনে ওই ওয়ার্ড গুলিতে মুখ রক্ষা নির্ভর করছে প্রার্থীর স্বামী ও স্ত্রীর ওপর। স্বাভাবিকভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে প্রত্যেকেই স্বামী এবং স্ত্রীর জয় ছিনিয়ে আনতে নেমেছেন জোরদার প্রচারে। 

মেয়াদউত্তীর্ণ বোর্ডের ২০ মাস পরে ভোটের দামামা

দেরিতে হলেও শেষমেষ প্রায় ২০ মাস বাদে নির্বাচন হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বোর্ড গঠনে। আগামী ২২ জানুয়ারি পুরনিগমের নির্বাচন। তবে ভোটের কাঠি পড়তেই শাসক বিরোধী প্রত্যেক দলই বোর্ড দখলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বেশ কিছু ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলারের স্ত্রী কিংবা স্বামী। ফলে এবার ওই ওয়ার্ড গুলিতে স্বামী এবং স্ত্রীর মুখ রক্ষা করতে হবে প্রার্থী প্রাক্তন কাউন্সিলারদের স্বামী ও স্ত্রীকে।

কারা লড়াইয়ের মুখ

রয়েছেন দুই প্রয়াত প্রাক্তন কাউন্সিলরের শূণ্যপদ ভরার লক্ষ্য। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রয়াত ও শিলিগুড়ি পুরনিগমের একমাত্র নির্দল কাউন্সিলর অরবিন্দ ঘোষের জায়গা ভরতে হবে। অন্যদিকে প্রয়াত ২৩ নং ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর তৃণমূলের কৃষ্ণচন্দ্র পালের সুনাম ধরে রাখতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরই ভ্রাতৃবধূ লক্ষী পাল। তবে বাকি ৪ টি ওয়ার্ডে প্রাক্তন কাউন্সিলারের স্বামী ও স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরনিগমের ২১ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার স্বপ্না দত্তের স্বামী এবার আবার একই ওয়ার্ডে কংগ্রের প্রার্থী হয়েছেন তপন দত্ত। ২৫ নং ওয়ার্ডে প্রাক্তন কাউন্সিলার সীমা সাহার স্বামী জয়ন্ত সাহা তৃণমূলের টিকিটে ওই ওয়ার্ড থেকে লড়ছেন। তিনি সস্ত্রীক কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছেন। ৩০ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার স্বপন দাসের স্ত্রী সাথী দাস লড়ছেন একই ওয়ার্ড থেকে। ৩৫ নং ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল প্রার্থী করেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলার জয়দীপ নন্দীর স্ত্রী শম্পা নন্দীকে। তবে জয়দীপ নন্দী শেষবার সংরক্ষণের গেরোয় কাউন্সিলর না থাকলেও তার আগে ১০ বছর কাউন্সিলর ছিলেন ওই ওয়ার্ডে। 

কি বলছেন প্রার্থীরা

এদিন প্রার্থী তপন দত্ত বলেন, ১০ বছর ধরে এই ওয়ার্ডে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে যতটা সম্ভব কাজ করেছেন আমার স্ত্রী। সেই উন্নয়ন নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। জয় নিশ্চিত।

২৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী জয়ন্ত সাহা বলেন, এখানে কাজের নিরিখে ভোট হয়। গত পাঁচবছর স্ত্রী যে উন্নয়নের কাজ করেছেন তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষ আমাদের পাশে রয়েছেন নিশ্চিত আমি জয়ী হবো।

৩০ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সাথী দাস বলেন, এলাকায় স্বামীর উন্নয়নের কাজকর্ম গুলি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ পূরণ করবো সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি মানুষকে। তবে আমি জয়ী হয়ে স্বামীর মুখ রাখবো এতে আমি নিশ্চিত।

প্রাক্তন কাউন্সিলারের স্ত্রী অর্থাৎ ৩৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী শম্পা নন্দী বলেন, এই এলাকায় স্বামীর একটা পরিচিতি রয়েছে ফলে এটা আমার একটা বাড়তি সুবিধা তাও তার কাজ কর্ম গুলি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষ আমাদের পাশে রয়েছেন।

অন্যদিকে ২৩ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণ চন্দ্র পালের ভ্রাতৃবধূ তথা ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী লক্ষী পাল বলেন, আমার ভাসুর এই ওয়ার্ডটিকে মডেল ওয়ার্ডে তৈরি করেছিলেন। তবে দাদা বেঁচে থাকাকালীন আমরা সবসময় দাদার সাথেই থাকতাম কাজ করতাম। উনি প্রয়াত হওয়ার পর আমরাই মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ রাখতাম ও তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখতাম। ফলে মানুষ আমাদের সাথেই আছে এবং কৃষ্ণ পালের নাম বজায় থাকবে ওয়ার্ডে।

এবার মুখ বদলে সাফল্য আসবে কি না, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কয়েকটা সপ্তাহ।

 
; ; ;