একেবারে বুথ স্তরেই লড়াই জেতার ছক কষছে বিজেপি নেতৃত্ব।BJP Assembly Elections 2026: বিধানসভা ভোটের আগেই 'ইলেকশন মোডে' BJP। বাংলায় সংগঠন মজবুত করাই পাখির চোখ গেরুয়া শিবিরের। দলীয় সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের ৮২টি লোকেশন জুড়ে প্রায় ৭১ হাজার বুথে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। একেবারে বুথ স্তরেই লড়াই জেতার ছক কষছে বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ, ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে বুথ ম্যানেজমেন্টই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করছে দলের উপরমহল। উল্লেখ্য, শুক্রবার মালদা উত্তরে দলীয় সভায় ২২০ সিটের স্ট্যাটেজিও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেটা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
চার 'স' এর নীতি BJP র
সংগঠন
সূত্রের খবর, SIR কার্যকর হলে রাজ্যে বুথের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মোট বুথের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯৩ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। বুথ স্তরের কর্মীদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এরপর পদ অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন। সব কিছুতেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এ দিকে, জানুয়ারিতেই রাজ্যে একাধিক বড় কর্মসূচিরও ইঙ্গিত মিলছে। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি মালদা ও হাওড়ায় জনসভা করতে পারেন। এই দুই সভাকে কেন্দ্র করেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে চাইছে বিজেপি। বুথ কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
সংযোগ
শুধু সভা নয়, পুরনো ক্যাডারদের কাছে ফেরার পরিকল্পনাও করেছে দল। বিজেপি নেতারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে পুরনো কর্মীদের বাড়িতে পৌঁছবেন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে সূত্রের খবর। সংগঠনের ভিত শক্ত করতেই এই উদ্যোগ।
সাবধানী
এ বার প্রার্থী বাছাইয়েও কড়া অবস্থানে বিজেপি। সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বা বাম শিবির থেকে আসা ‘দাগি’ নেতাদের নেওয়ার বিষয়েও তারা সাবধানী। একই সঙ্গে টলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন তারকাদের উপর ভরসা রাখতেও আগ্রহী নয় গেরুয়া শিবির। বিজেপির রণকৌশলীদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১১০ জন তৃণমূল, অন্যান্য দল এবং টলিউড-টিভি জগতের পরিচিত মুখকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। তার ফলেই দলের ক্ষতি হয়েছে।
এ বার ভিন্ন পথে হাঁটতে চাইছে বিজেপি। পূর্বাঞ্চলের ভোটার, বিহারি, মাড়োয়ারি এবং দেশের অন্য প্রান্ত থেকে আসা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু ভোটার নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। লক্ষ্য একটাই; তাঁদের বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে রাজি করানো।
এ ছাড়াও রাজ্যের ফুটবল ক্লাবগুলিতেও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায় বিজেপি। ক্রীড়াজগতের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরি করেই জনসংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সৌজন্য
সূত্রের খবর, নেতিবাচক প্রচার নিয়েও এবার বাড়তি সতর্ক বিজেপি। আক্রমণাত্মক বা নেতিবাচক প্রচারের বদলে নিজেদের ইতিবাচক কর্মসূচি ও বার্তা তুলে ধরার দিকেই জোর দেওয়া হবে। সৌজন্যের রাজনীতির মাধ্যমে পজিটিভ ভাইব তৈরির কথা বলা হচ্ছে। সংগঠন, বুথ এবং মাঠের কর্মীদের হাত ধরেই ২০২৬ এর লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে বিজেপি।