scorecardresearch
 
 

Durga Puja 2021:৭১-এ কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তান, এখন সেখানে দুর্গা পুজো করেন নারীবাহিনী

শারদীয়ার আনন্দে মেতেছেন ওপার বাংলার মানুষ। এই বাংলার মতোই ওপারেও পাঁচদিন থাকবে উৎসবের আমেজ। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজো। যার মধ্যে নাম করতেই হবে রমনা কালী মন্দিরের।

শারদীয়ার আনন্দে মেতেছেন ওপার বাংলার মানুষরাও শারদীয়ার আনন্দে মেতেছেন ওপার বাংলার মানুষরাও
হাইলাইটস
  • শারদীয়ার আনন্দে মেতেছেন ওপার বাংলার মানুষরাও
  • এই বাংলার মতোই ওপারেও উৎসবের আমেজ
  • ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজো


শারদীয়ার আনন্দে মেতেছেন ওপার বাংলার মানুষ। এই বাংলার মতোই ওপারেও  পাঁচদিন থাকবে উৎসবের আমেজ। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজো। যার মধ্যে নাম করতেই হবে রমনা কালী মন্দিরের। ৭১-এ এই কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু থামাতে পারেনি ঐতিহ্যকে। এবার সেই রমনা কালী মন্দিরের দুর্গাপুজো করছেন মহিলারা। অন্তত চারশ বছরের পুরনো রমনার কালীমন্দিরের দুর্গাপুজো । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশেই আয়োজন করা হয় পুজোর। চলুন ফিরে দেখা যাক সেই ইতিহাস।

 

এশিয়ার সবথেকে বড় দুর্গাপুজো নাকি এটাই! দেখুন এক ঝলক

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস
বাংলাদেশের দেড় হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাক্ষী রমনা কালীমন্দির। এটি রমনা কালীবাড়ি নামেও পরিচিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী গণহত্যা চালানোর পাশাপাশি ডিনাইমাইট দিয়ে মন্দিরটি ধ্বংস করে দেয়। হত্যা করা হয় মন্দিরের সেবায়েতসহ প্রায় একশ সন্ন্যাসী, ভক্ত ও সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে। রমনা কালী মন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞে গণতদন্ত কমিশন গঠিত হয় ২০০০ সালের ২৭ মার্চ। কালীবাড়ি মন্দিরটি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়। তারা মন্দির ও আশ্রমটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মন্দিরের সেবায়েতসহ প্রায় একশ সন্ন্যাসী, ভক্ত এবং সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পর নতুন করে নির্মিত হয়েছে শ্রীশ্রী কালীমন্দির ও শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রম। মন্দিরের প্রধান ফটক দিঘির উত্তর-পূর্ব পাশে প্রধান ফটকের বাইরে রয়েছে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ নিহত শহিদদের তালিকাসংবলিত একটি স্মৃতিফলক।

আরও পড়ুন: বাড়ছে ঠাকুর দেখার ভিড়, কেমন হচ্ছে এবার ঢাকার পুজো?

জড়িয়ে রয়েছে ভারতের নামও
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসের সঙ্গেও রমনা কানীমন্দিরের নাম জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে পরাজিত পাকবাহিনীর আত্মসমর্পনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল রমনা রেসকোর্স ময়দানেই। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী স্বাধীন বাংলাদেশে সফরে এসে একই স্থানে মুজিব-ইন্দিরা মঞ্চে বাংলার মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে ঢাকায় পৌঁছে ছুটে আসেন রমনা রেসকোর্স ময়দানেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও সরকার রমনা কালীমন্দির পুনরনির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে রমনা কালীমন্দিরকে ২.২৬ একর জমি দান করা ছাড়াও অন্যান্য সহযোগিতা করেন। এই মন্দির পুনরনির্মাণে প্রাথমিক ভাবে ৭ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল ভারত সরকার।

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পুজো
 স্বাধীনতার পর থেকে ফের ঘটা করে প্রতি বছর দুর্গাপুজো হয়ে আসছে এখানে। এবার  দুর্গাপুজোর ভার নিয়েছেন মহিলারা।  এর আগে  পুজোর মূল দায়িত্বে নারীরা ছিলেন, এমনটা হয়নি বলেই জানাচ্ছেন মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা।  রমনা কালী মন্দির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। তাই এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় থাকে প্রচুর।

 

 

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে হচ্ছে দুর্গাপূজা। গত বছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৯০৫টি। ঢাকা মহানগরে এ বছর পূজা হচ্ছে ২৩৮টি স্থানে, যা গত বছরের চেয়ে ৪টি বেশি। নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা পালনে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি পূজা আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।