scorecardresearch
 

বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশ সফর করেন ইন্দিরা, ভারতের 'প্রতিবেশী পাঠ' এখনও মনে রেখেছে বাংলাদেশ

ভারত ও বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কের উপর জোর দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে। মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতীর রাষ্ট্রদূত। সেখানেই দোরাইস্বামী বলেন, “আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূলনীতি ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। এখন আমাদের উচিৎ সন্দেহ ও সংশয় দূর করে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই।"

‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ আলোচনা অনুষ্ঠিত হল ঢাকায় ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ আলোচনা অনুষ্ঠিত হল ঢাকায়
হাইলাইটস
  • সন্দেহ ও সংশয় মেটাতে দরকার দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক
  • ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনায় বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী
  • প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বললেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী

ভারত ও বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কের উপর জোর দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত  ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে। মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতীর রাষ্ট্রদূত। সেখানেই দোরাইস্বামী বলেন, “আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূলনীতি ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। এখন আমাদের উচিৎ সন্দেহ ও সংশয় দূর করে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই।"

দোরাইস্বামীর কথায়, “পৃথিবী খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা যত দ্রুত এগোতে পারব, তত দ্রুতই আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধি লাভ করতে পারব।” দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের  উন্নয়নে জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যাম, ব্যবসা, ভ্রমণ, পরিবহন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি রয়েছে।

বাংলাদেশে এবার খুলে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, দিন ঘোষণা করে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

দুই দেশের সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে দোরাইস্বামী বলেন, “আমি দেখেছি, সহযোগিতা বাড়লে উন্নতিও বাড়ে। সুতরাং আমার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না এবং আপনার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আমার জন্যও ভালো হবে না। আমরা যদি এটা অনুসরণ করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা হবে।” দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে, তার মূলনীতি ও পথ বঙ্গবন্ধুর সময়েই তৈরি হয়ে যায় বলেও মন্তব্য করে তিনি।  বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এখন দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।” দোরাইস্বামীর কথায়, “দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক এবং বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রাভেল পার্টনার। এভাবেই আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।”

বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম, রক্তের বিনিময়ে অক্ষর, যে পথে হেঁটেই মুক্তিযুদ্ধ

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশের  তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, “নির্বাচন এলে বিএনপি ও কিছু দল ভারত বিরোধিতাকে সামনে এনে প্রচার করে। যাদের সহযোগিতা ছাড়া এ দেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না, তাদের বিরোধিতা করে!” বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী  আরও বলেন, “প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একথা তারা বুঝেও বোঝেন না। আবার বুঝলেও রাজনীতির স্বার্থে অপরাজনীতি করেন।” তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কারণে ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির কারণে আমরা ভারতের কাছ থেকে আমাদের ছিটমহলের অধিকার ফিরে পেয়েছি। অথচ এ চুক্তি নিয়ে একটি মহল বিরূপ প্রচার চালিয়েছিল।”

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের সহযোগিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বাংলাদেশের  তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের জেল থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যেন ফাঁসি দেওয়া না হয়, সেজন্য ৩০টির মতো দেশ সফর করেছিলেন তিনি।”