scorecardresearch
 

India's Nuclear Warheads : আরও শক্তিশালী ভারত, বাড়াচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র; প্রকাশ্যে নয়া তথ্য

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা ছিল ১৫৬, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১৬০ হয়েছে। এসআইপিআরআই-এর তথ্য অনুসারে, এই দুই সময়েই পাকিস্তানের কাছে ১৬৫টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্র বৃদ্ধিতে নিযুক্ত রয়েছে। ভারত নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র বাড়াতে ব্যস্ত। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকাশ করে না। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য দেয়, কিন্তু তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের শক্তি, আকার বা সামর্থ্য সম্পর্কে কখনওই জানায় না।

Advertisement
প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • ভারতের রয়েছে ১৬০ পারমাণবিক অস্ত্র
  • পাকিস্তানের আছে ১৬৫টি পারমাণবিক
  • বিশ্বে ১২,৭০৫টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে

বিশ্বে মাত্র ৯টি দেশ আছে যাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতও। ভারতের কাছে মোট ১৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ভারত এই অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। স্টকহোম-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI) এই দাবি করেছে। SIPRI আরও জানাচ্ছে যে, পাকিস্তানও এমনটাই করছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানও নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। 

স্যাটেলাইট ছবি থেকে জানা গিয়েছে, চিনও তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তি বাড়াচ্ছে। চিন ৩০০-রও বেশি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো তৈরি করছে। সাইলো হল গভীর এবং সিলিন্ডারের মতো এক ধরনের গর্ত, যেখান দিয়ে মিসাইল বের হয়। এই মিসাইলগুলি পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত হতে পারে। গত বছরের জানুয়ারিতে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে চিনের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৩৫০ বলে দাবি করা হয়েছিল হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

গত ২ বছর ধরে চিনের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৩৫০ বলা হচ্ছে। যদিও সিআইপিআরআই-এর তথ্য অনুসারে, চিন গত বছর অনেক নতুন লঞ্চার নামিয়েছে। অর্থাৎ চিনের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কম বলা হলেও, তারা নিজেদের ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে পারে।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা ছিল ১৫৬, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১৬০ হয়েছে। এসআইপিআরআই-এর তথ্য অনুসারে, এই দুই সময়েই পাকিস্তানের কাছে ১৬৫টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্র বৃদ্ধিতে নিযুক্ত রয়েছে। ভারত নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র বাড়াতে ব্যস্ত। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকাশ করে না। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য দেয়, কিন্তু তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের শক্তি, আকার বা সামর্থ্য সম্পর্কে কখনওই জানায় না।

Advertisement

কেন দেশের কাছে কত পারমাণবিক অস্ত্র?
ভারতের কাছেও পারমাণবিক অস্ত্র আছে, কিন্তু ভারতের নীতি হল তারা কখনওই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করবে না। কিন্তু পাকিস্তানে এই ধরনের কোনও নীতি নেই। যে ৯টি দেশে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে সেগুলো হলো আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল ও উত্তর কোরিয়া। রাশিয়ার ৫,৯৭৭, আমেরিকার ৫,৪২৮, চিনের ৩৫০, ফ্রান্সের ২৯০, ব্রিটেনের ২২৫, পাকিস্তানের ১৬৫, ভারতের ১৬০, ইসরায়েলের ৯০ এবং উত্তর কোরিয়ার ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

ছবি সূত্র-উইকিপিডিয়া
ছবি সূত্র-উইকিপিডিয়া

বিশ্বে মোট কত পারমাণবিক অস্ত্র?
ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (FAS) অনুসারে, বিশ্বে ১২,৭০৫টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যার মধ্যে ৯,৪০০টি সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকি পারমাণবিক অস্ত্রগুলি অবসরপ্রাপ্ত, কিন্তু এখনও নিরাপদ। কারণ সেগুলি এখনও ভেঙে ফেলা হয়নি। বিশ্বের ৯,৪৪০টি পারমাণবিক অস্ত্র বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর কাছে রয়েছে। এর মধ্যে ৩,৭৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানে মোতায়েন রয়েছে। তবে ভারত ও পাকিস্তান তাদের কোনও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেনি। ৩,৭৩০টি পারমাণবিক অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ২,০০০টি পারমাণবিক অস্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সে হাই অ্যালার্টে রয়েছে। অর্থাৎ শর্ট নোটিশে ফায়ার করার জন্য সেগুলি প্রস্তুত।

পাকিস্তানের মিসাইল
পাকিস্তানের স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হল নাস্ত্রা, হাতফ, গজনভি এবং আবদালি। সেগুলির পাল্লা ৬০ থেকে ৩২০ কিমি দূরত্বে হামলা চালাতে পারে। মাঝারি পাল্লার মিসাইল গৌরী এবং শাহীনের রেঞ্জ ৯০০ থেকে ২,৭০০ কিমি। এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালান হলে দিল্লি, জয়পুর, আহমেদাবাদ, মুম্বাই, পুনে, ভোপাল, নাগপুর, লখনউ এর আওতায় আসতে পারে।

ভারতের মিসাইল
অন্যদিকে ভারতের কাছে রয়েছে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পৃথ্বী। এর রেঞ্জ ৩৫০ কিমি। অগ্নি-১ এর রেঞ্জ ৭০০ কিমি, অগ্নি-২ ২,০০০ কিমি এবং অগ্নি-৩ এর রেঞ্জ ৩,০০০ কিমি। এদের সবাইকে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়েছে। অগ্নি-ভির পাল্লা ৫০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ভারত পাকিস্তানের সমস্ত শহরকে টার্গেট করতে পারে। ভারত পাকিস্তানের উপর পারমাণবিক বোমা ফেললে রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ইসলামাবাদ, নভশেরা এবং করাচি শহরগুলিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিতে পারে।

ভারতের পারমাণবিক নীতি
ভারত ১৯৯৯ সালে 'প্রথম ব্যবহার না করার' পরমাণু নীতি ঘোষণা করেছিল। অর্থাৎ ভারত কখনওই প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। পরমাণু হামলা হলেই তবেই ভারত তার পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে। তবে পাকিস্তানে এই ধরনের কোনও নিয়ম বা আইন নেই। কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাদের পারমাণবিক হামলা চালানো হবে তা পাকিস্তানের নেতা ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের উপর নির্ভর করে।

১৯৯৯ সালে, কার্গিল যুদ্ধ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়েছিল। তাতে জয় পায় ভারত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন বছর পর ২০০২ সালে সিআইএ বিশ্লেষক ব্রুস রিডল বলেন, ১৯৯৯ সালে মার্কিন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছিল যে পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ করার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

আরও পড়ুনহাতে টাকা নেই? বাড়িতে রাখুন এই ৪ জিনিস, তারপর দেখুন কামাল

Advertisement

 

Advertisement