গত বিধানসভায় কেবল ১টি আসন, এবার কেরলে কতবড় ফ্যাক্টর BJP?

কেরলে মূল লড়াই সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের মধ্যে। আগামী ৬ তারিখ এক দিনেই ১৪০টি বিধানসভায় ভোট।। কেরল বিধানসভায় বিজেপির একমাত্র বিধায়ক ও দলের বড় নেতা ও রাজগোপাল। দক্ষিণের এই রাজ্যে ৪৫ শতাংশ মুসলিম ও খ্রিস্টান জনসংখ্যার কারণে এখানে বিজেপির পক্ষে মেরুকরণের তাস খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। তা সত্ত্বেও, রাজ্যে বিজেপির ভোট শতাংশ বৃদ্ধি বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের কপালে ভাজ ফেলেছে।

Advertisement
গত বিধানসভায় কেবল ১টি আসন, এবার কেরলে কতবড় ফ্যাক্টর BJP?Narendra Modi
হাইলাইটস
  • আগামী ৬ এপ্রিল ভোট দক্ষিণের রাজ্য কেরলে
  • ১৪০টি বিধানসভায় একদিনেই হবে ভোট গ্রহণ
  • বিজেপি এবার কেরলে কতবড় ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে?

কেরলে নির্বাচনের দিন প্রায় চলে এল। আগামী ৬ এপ্রিল ভোট। গত বিধানসভায় দক্ষিণের এই রাজ্য থেকে মাত্র একটি আসন জিতেছিল বিজেপি। তবে এবার আগের তুলনায় কেরলে ভাল ফলের আশা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে বড় কোনো ধরণের রদবদল ঘটবে এমন সম্ভাবনা কম। যদিও  কেরলে বিজেপির উত্থান ক্ষমতাশীন এলডিএফ এবং ইউডিএফ দুই তরফেরই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। 

 কেরলে মূল লড়াই সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সঙ্গে  কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের মধ্যে। আগামী ৬ তারিখ এক দিনেই ১৪০টি বিধানসভায় ভোট।। কেরল বিধানসভায় বিজেপির একমাত্র বিধায়ক ও দলের বড় নেতা  ও রাজগোপাল। দক্ষিণের এই রাজ্যে  ৪৫ শতাংশ মুসলিম ও খ্রিস্টান জনসংখ্যার কারণে এখানে  বিজেপির পক্ষে  মেরুকরণের তাস খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। তা সত্ত্বেও, রাজ্যে বিজেপির ভোট শতাংশ বৃদ্ধি বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের কপালে ভাজ ফেলেছে।

জুডাসের সঙ্গে বামেদের তুলনা, প্রতারণার অভিযোগ মোদীর

বিজেপিতে নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগ রয়েছে বাম নেতৃত্ব। কারণ, বেশকিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে এই  রাজ্যের বিজেপি ভোটারদের  একাংশ অনেক ক্ষেত্রে কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেয় যাতে বাম প্রার্থীরা বিজয়ী না হন। এটা পরিষ্কার আদর্শগত ভাবে বামরা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করা বিজেপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শত্রু।

কী কারণে বিজেপিকে নিয়ে কেরলে  দুই প্রধান শিবিরের চিন্তা বাড়ছে চলুন তা দেখে নেওয়া যাক। 

দক্ষিণে গিয়েও বাংলার চিন্তা , শোভা মজুমদারের মৃত্যু নিয়ে সরব Modi

ভোট বাড়ছে ভারতীয় জনতা পার্টির
 ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট শেয়ার কেরলে কিন্তু একটানা বাড়ছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কেবল ৬.০৩  শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা বেড়ে হয়েছিল ১০.৮৫ শতাংশ। ২০১৬ বিধানর সভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর ঝুলিতে গিয়েছিল ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট। আর উনিশের লোকসভায় সেই ভোট বেড়ে হয়েছিল ১৫.২ শতাংশ। ২০২০ সালে অর্থআৎ গতবছর রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। 

পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাফল্য
গত বছর অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনে  বিজেপি তুলনামূলক ভাবে ভাল ফল করেছিল। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপি প্রধান বিরোধী দলের আসন পেয়েছে। এনডিএ ১১৮২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩ টি ব্লক পঞ্চায়েত, ২ টি জেলা পঞ্চায়েত, ৩২০টি পৌরসভা ওয়ার্ড এবং ৫৯ টি পৌর কর্পোরেশন ওয়ার্ড জিতেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিজেপি নেতারা বেশ খুশি এবং তারা মনে করেন যে রাজ্যে তাদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

Advertisement

মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, কেরলে  পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দলটি প্রায় ৩৫  লক্ষ ভোট পেয়েছিল অর্থাৎ মোট ভোটের প্রায় ১৭  শতাংশ। সেখানে ২০১৫ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ১৩.২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

নিজের পুরো শক্তি লাগিয়েছে বিজেপি
বিজেপি কেরালায় তার রাজনৈতিক ভিত শক্ত করতে কোনও ত্রুটি রাখছে না । শহুকে ভোটারদের নিজেদের দিকে টাইনতে মেট্রোম্যান  ই  শ্রীধরণকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুল ধরা হয়েছে।  পাশাপাশি মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ভোট পাওয়ার চেষ্টাও চালান হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের তরফে। কেরলে সংখ্যালঘু ভোট টানতেই আরিফ মোহাম্মদ খানকে রাজ্যপাল করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করেন রাজনৈতির বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কেরলে  ভোটপ্রচারে নামান হয়েছে দলের হিন্দুত্ববাদী মুখ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। এছাড়া নিয়মিত প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। রাজ্যে সদস্যপদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধিতে সতর্ক বাম-কংগ্রেস
গত বিধানসভায় বিজেপির একটি আসন থাকতে পারে, তবে  বামপন্থী এবং কংগ্রেস নেতৃত্বরা এবারের নির্বাচনে  গেরুয়া শিবিরকে একেবারেই  হালকাভাবে নিচ্ছেন না না। ইন্ডিয়া টুডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিপিআই (এম) এর রাজ্য ইউনিট গত বছরের আগস্টে এই নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। লোকসভা নির্বাচনের পরে জনগণের মেজাজ জানতে ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় কর্মীরা  সমীক্ষাও করেছিলেন। এর থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দলটি সংগঠনে অনেক পরিবর্তন করেছে এবং নেতাকর্মীদের জন্য আচরণবিধি জারি করেছে। এই তথ্য প্রদান করে, এনডিএফ জোটের প্রতিমন্ত্রী কে বালকৃষ্ণ বলেছিলেন  যে 'দলের কর্মকর্তাদের  তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং আম জনতার অভাব-অভিযোগের খেয়াল রাখতে হবে।'

 

POST A COMMENT
Advertisement