বাংলার মত ভোটের দামামা বেজেছে কেরলে। আগামী ৬ এপ্রিল এক দফাতেই ভোটগ্রহণ হতে চলেছে দেশের দক্ষিণ প্রান্তের রাজ্যটিতে। এবার কেরলের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। কিন্তু লড়াই শুরুর আগেই ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের তিন প্রার্থীর মনোনয়ন খারিজ হয়ে গেল। নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন যাচাই করার সময় ওই তিন প্রার্থীর মনোনয়ন খারিজ করে দেয়। যদিও তাতে থামতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যে ওই তিন প্রার্থী কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
নিউজ এজেন্সি এএনআই সূত্রে জানা যাচ্ছে এনডিএ প্রার্থীদের আবেদনের শুনানি সোমবার করবে হাইকোর্টে। কান্নুরের বিজেপি সভাপতি এন হরিদাস থ্যালাসেরি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরে বিজেপির জাতীয় সভাপতির স্বাক্ষর তাতে না থাকায় হরিদাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
গুরুভায়ুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি নিবেদিতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনী আধিকারিক দলের রাজ্য সভাপতির নাম উল্লেখ না করায় নিবেদিতার মনোনয়নও বাতিল করে কমিশন। এনডিওর অন্যতম শরকি এআইএডিএমকের প্রার্থী ধনলক্ষ্মী মরিমুথু দেবীকুলাম বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে কমিশনের তরফে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হোল কান্নুর জেলার থ্যালাসেরিতি বিজেপি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। গত বিধানসবা নির্বাচনে এই আসন থেকেই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০১৬ সালে বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে গিয়েছিল ২২ বাজার ২১৫ ভোট। এবার এই আসনে মনোনয়ন খারিজ হওয়ায় বিধানসভা ভোটে নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ আসনটি হারালো বিজেপি। তবে এই কেন্দ্রে দলের প্রার্থী এন হরিদাস দাবি করেছেন তিনি বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাবেন।
কংগ্রেসের ইস্তেহার প্রকাশ
কেরলে বিজেপি ময়দানে থাকলেও মূল লড়াই কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের। এই আবহে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট তাদের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। ইস্তেহারে সমস্ত সাদা কার্ডধারীদের বিনামূল্যে পাঁচ কেজি চাল এবং দরিদ্রদের জন্য পাঁচ লক্ষ বাড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
'পিপলস মেনিফোস্টো' নামের ইস্তেহারে মহিলাদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মহিলা ভোটারদের কাছে টানতে, এমন মা যিনি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে চান তার ক্ষেত্রে বয়সের সীমায় দুই বছরের ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ৪০ থেকে৬০ বছর বয়সের কর্মহীনমহিলাদের মাসিক দুই হাজার টাকা পেনশন দেওয়ারও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা পেনশন ১৬০০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইস্তেহারে।