scorecardresearch
 

Bengal Election 2021: তীরে এসেও তরী টলমল! জোটের কাঁটা কি কংগ্রেসের গোঁ, নাকি ISF-এর উচ্চাশা!

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে! বিজেপি বাদে বাকি সমস্ত সরকার বিরোধী দলকে একত্রিত করে শক্তি বাড়াচ্ছে বাম-কংগ্রেস জোট (Left-Congress alliance)। কিন্তু কিছুতেই ১০১টি বিধানসভা আসন বন্টনে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

জোটের কাঁটা কি কংগ্রেসের গোঁ, নাকি ISF-এর উচ্চাশা! জোটের কাঁটা কি কংগ্রেসের গোঁ, নাকি ISF-এর উচ্চাশা!
হাইলাইটস
  • আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে!
  • বিজেপি বাদে বাকি সমস্ত সরকার বিরোধী দলকে একত্রিত করে শক্তি বাড়াচ্ছে বাম-কংগ্রেস জোট।
  • কিন্তু কিছুতেই ১০১টি বিধানসভা আসন বন্টনে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে! বাংলায় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে গদিচ্যুত করতে একদিকে যেমন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব দিল্লি থেকে এ রাজ্যে উড়ে এসে প্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই বিজেপি বাদে বাকি সমস্ত সরকার বিরোধী দলকে একত্রিত করে শক্তি বাড়াচ্ছে বাম-কংগ্রেস জোট (Left-Congress alliance)।

ইতিমধ্যে ১৯৩টি আসন পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। বাকি ১০১টি বিধানসভা আসন ভাগ করে দেওয়া হবে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD), জনতা দল সেকুলার (JDS) এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে (NCP)। কী ভাবে এতগুলো দলের মধ্যে বন্টন হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের।

EXCLUSIVE: যত বার জোট, তত কম ভোট! জোট-রাজনীতি কি ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছে বঙ্গের বামশক্তিকে?

কিন্তু কিছুতেই ১০১টি বিধানসভা আসন বন্টনে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গে পাঁচটা আসন আব্বাস সিদ্দিকির দলকে (ISF) ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে আরও কয়েকটা আসন চাই। ওই আসনগুলি আব্বাস সিদ্দিকির দলকে (ISF) ছেড়ে দিতে হলে সেগুলি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে কংগ্রেসকেই। আর এখানেই যত বিপত্তি! উত্তরবঙ্গের দু-একটি আসন ছাড়ার বিষয়ে কোনও মতেই রাজি নয় কংগ্রেস। আসন-রফার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানও। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নেই তার।

Abbas Siddiqui

এ দিকে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসন-রফার বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও রকম ইতিবাচক সাড়া না মেলায় সমাধান সূত্রের জন্য ঘুরে ফিরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এসে সিপিএম নেতৃত্বের দ্বারস্ত হতে হয়েছে আব্বাস সিদ্দিকির দলকে (ISF)। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) গোটা দুয়েক আসন ছাড়া বাকি বিষয়ে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। এ দিকে বাঘমুণ্ডি আর জয়পুর— এই দু’টি আসনের একটিও জোট-সঙ্গী বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লককেও ছাড়তে চাইছে না কংগ্রেস। এ বিষয়ে কংগ্রেসের গোঁ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরওয়ার্ড ব্লক সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়।

বাংলায় জোটবদ্ধ ভোট-যুদ্ধের ব্যাটন কি এ বার আব্বাস সিদ্দিকীর হাতে?

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, আব্বাস সিদ্দিকীর দল (ISF) ভোট যুদ্ধে নামায় বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট বাঁচাতে শাসক দলকেও নতুন করে অঙ্ক কষতে হচ্ছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ময়দানে আব্বাস সিদ্দিকীর দল লড়াইয়ে নামায় যার যতটুকুই লাভ হোক না কেন, ভোট কাটাকাটিতে ক্ষতির আশঙ্কা শাসক দলেরই। ফলে আসন্ন নির্বাচনে জোটের সাফল্যের ক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)।

Left-Congress Alliance

এ দিকে সম্প্রতি India Today Conclave East 2021 এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এ বারের নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে তিনি ১১০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। শেষ দু’বারের চেয়েও বেশি আসনে জেতার দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, “২২১-এর কম সিট পাব না।” তাই ১৯৩টি আসনে বাম-কংগ্রেস বোঝাপড়া পাকা হলেও মোট কতগুলি আসনে সাফল্য মিলবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে।

তবে বাংলার সংখ্যালঘু ভোটের অনেকটাই আব্বাস সিদ্দিকীর ঝুলিতে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বাংলায় জোটবদ্ধ ভোট-যুদ্ধে নামার আগেই আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে জট কাটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাম-কংগ্রেসের দুঁদে রাজনৈতিক নেতাদের। তাই তীরে এসেও জোটের তরী এখনও টলমল! জোটে আসন রফার ক্ষেত্রে কাঁটা কি কংগ্রেসের গোঁ, নাকি ISF-এর উচ্চাশা! পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এর উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন।