scorecardresearch
 
 

বাঙালির দুর্গা নেপালের 'ভবানী', শুধু বিজয়া দশমী হল 'দশেইন'

সুবিশাল হিমালয় ঘেরা বিচিত্র রূপ নিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি দেশ নেপাল। ভারতের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতির মিল অনেকাংশেই মেলে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় খাদ্যাভ্যাস থেকে সংস্কৃতির অধিকাংশ মিল দেখতে পাওয়া যায়। ভারতের মতো নেপালেও জাঁকজমকভাবে পালিত হয় দশেরা। যা বাঙালির দুর্গাপুজো আর নেপালের দশেইন। নেপালের প্রধান উৎসবই হল দশেইন। মা দুর্গাকে দুর্গা ভবানী নামে পুজো করেন নেপালিরা।

(ছবি: wikimedia) (ছবি: wikimedia)
হাইলাইটস
  • দেবী দুর্গার আরাধনার প্রথম দিন অর্থাৎ পুজোর সূচনা হয় ঘট স্থাপন দিয়ে
  • মহাষ্টমীতে হয় পাঠাবলি
  • নেপালের বিজয়া দশমীতে মেলে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া

সুবিশাল হিমালয় ঘেরা বিচিত্র রূপ নিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি দেশ নেপাল (Nepal)। ভারতের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতির মিল অনেকটাই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় খাদ্যাভ্যাস থেকে সংস্কৃতির অধিকাংশ মিল দেখতে পাওয়া যায়। ভারতের মতো নেপালেও জাঁকজমকভাবে পালিত হয় দশেরা। যা বাঙালির দুর্গাপুজো (Durga Puja) আর নেপালের 'দশেইন' (Dashain)। নেপালের প্রধান উৎসবই হল দশেইন। মা দুর্গাকে 'দুর্গা ভবানী' নামে পুজো করে নেপালিরা। 
 
বাংলা ও বাঙালির মতোই এই উৎসবকে ঘিরে নেপালিরাও দুষ্টের দমন ঘটিয়ে সুখ, সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। দশ দিন ধরে দেবী দুর্গার আরাধনায় মাতেন নেপালবাসীরা। নতুন জামা, জুতো সাজপোশাকে সেজে ওঠেন তারা। ভাত, ডাল, মাংস সহযোগে নানানরকম ঐতিহ্যশালী নেপালি পদ খাওয়া দাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিনগুলি উদযাপন করে। 

প্রথমা

লোকসংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ নেপালে দেবী দুর্গার আরাধনার প্রথম দিন অর্থাৎ পুজোর সূচনা হয় ঘট স্থাপন দিয়ে। এই ঘট স্থাপনে ব্যবহার হয় গোবরের। তারাও শুভ কাজের সূচনায় গোবরকে শুভ বলে মানে। গোবরে ভুট্টার দানা, গমের দানা মিশ্রিত করে জামারা তৈরি করা হয়।

সপ্তমী

সপ্তমীর অনুষ্ঠানকে ফুলপাতি বলা হয়। এই অনুষ্ঠানে কলস অর্থাৎ কলসী, আখ, গোবরের তৈরি জামারা এবং কলার পাতা নিয়ে লাল কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর গোর্খা ব্রাহ্মণরা তা রাজার প্রাসাদে নিয়ে যায় এবং তারপর তা রাজাকে দেওয়া হয়। 

মহাষ্টমী 

নেপালে দশেরা উৎসবের অষ্টম দিনকে বলা হয় মহাষ্টমী। এই দিনে পাঠা বলিদান দেওয়া হয় এবং তারপর প্রসাদ হিসেবে তা রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে। বিশেষত, বাঙালিদের কালী পুজোয় পাঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ, কিন্তু দুর্গাপুজোয় সবজি বলিদান বাঙালিদের মধ্যে অনেকেরই রীতি আছে।

বিজয়া দশমী 

বিজয়া দশমী নেপালে দশেরা উদযাপনের সমাপ্তির দিন। এই দিন দই, সিঁদুর এবং চাল দিয়ে বিশেষ টিকা প্রস্তুত করা হয়। বাড়ির বড়রা পরিবারের ছোট সদস্যদের কপালে জামারা সহ এই টিকা লাগান। এটা বিশ্বাস করা হয় যে লাল টিকা ঐক্যের প্রতীক। এদিন বড়রা ছোটদের আশীর্বাদ, উপহার দিয়ে থাকে। পরিবারের সকলে একত্রিত হয়ে পালন করে টিকার আচার।

বাঙালিদের বিজয়া দশমী মানে একরাশ কষ্ট নিয়ে মাকে বিদায় জানানোর মুহূর্ত। এদিন বিবাহিত মহিলারা মাতেন সিঁদুর খেলায়। যুগের পর যুগ সিঁদুর খেলার মধ্যে দিয়ে ঐক্যের বাঁধন লক্ষ্য করা যায়। বাঙালিদের মতোই পুজোর দিনগুলোয় মাছ-ভাত দিয়ে জমিয়ে ভুরিভোজ করতে পছন্দ করে নেপালিরা। পর্ক বা শুয়োরের মাংস, মটনও তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে। দুর্গাপুজো ছাড়াও দিওয়ালি, সরস্বতী পুজো এবং শিবরাত্রি এই অঞ্চলের অনন্য স্থানীয় উৎসব।

ম্যাজাস্টিক হিমালয় পর্বতমালার প্যানোরামা। সবুজ পাহাড়, বন, তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে নেপালি জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হয়। হিমালয় অঞ্চলে এবং এর আশেপাশে এর শান্ত, স্নিগ্ধ রোমান্টিকতা সহবাস করে এই নেপালে।