scorecardresearch
 

৪০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে সাফাইকর্মী হলেন মহিলা! কারণ জানেন?

বড় চাকরি করার স্বপ্ন সবার থাকে। কিন্তু, সেই চাকরি ছেড়ে সাফাইকর্মীর কাজ বেছে নিলেন মহিলা! গল্প নয়। একেবারে সত্যি। ঘটনা ব্রিটেনের। মহিলার নাম ক্লেয়ার বার্টন। চাকরি ছেড়ে একটুও হতাশ নন তিনি। বরং বেশ খুশি।

বাবার সঙ্গে ক্লেয়ার বার্টন বাবার সঙ্গে ক্লেয়ার বার্টন
হাইলাইটস
  • বড় চাকরি করার স্বপ্ন সবার থাকে
  • ৪০ লাখ টাকা বেতনের চাকরিও করতেন মহিলা
  • তবে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন সাফাইকর্মীর কাজ করেন তিনি

বড় চাকরি করার স্বপ্ন সবার থাকে। কিন্তু, সেই চাকরি ছেড়ে সাফাইকর্মীর কাজ বেছে নিলেন মহিলা! গল্প নয়। একেবারে সত্যি। ঘটনা ব্রিটেনের। মহিলার নাম ক্লেয়ার বার্টন। চাকরি ছেড়ে একটুও হতাশ নন তিনি। বরং বেশ খুশি। তাঁর মতে,  কর্পোরেট চাকরিতে ইমেল লেখার সাফাইকর্মীর কাজ করে তিনি আনন্দে আছেন।  আর এটাই নাকি তাঁর জীবনের সেরা পদক্ষেপ।

'দ্য সান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লেয়ার বার্টন এখন ৬ জনের কাছে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। আর এই কাজ করতে তিনি শুরু করেন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মিসেস হিঞ্চকে দেখে। বার্টন ২০০১ সালের অগাস্টে একটি হাই-স্ট্রিট ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ শুরু করেন। তখন তার আয় ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। ২০০৩ সালে প্রেমিক ডেভকে বিয়ে করেন তিনি। 

আরও পড়ুন : সৌরভের চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল টিম, কেমন আছেন মহারাজ?

সংসার জীবন বেশ ভালোই চলছিল। ২০১৭ সালে তাঁর পদোন্নতি হয়। তখন তাঁর বেতন ছিল প্রায় ৪০ লাখ টাকা।  কিন্তু সেই বছরই তাঁর বাবা লিভার ক্যান্সারে মারা যান। এর ঠিক এক বছর বাদে তাঁর বিয়েও ভেঙে যায়। কার্যত একা হয়ে পড়েন তিনি। 

এরপরই তাঁর জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ক্লেয়ার বার্টন বলেন, 'আমার তখন মনে হয়েছিল, আর বেঁচে থেকে লাভ নেই। এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম যে, পরের কয়েক মাস একা ছিলাম। সেই সময় একটি জিনিস আমাকে অপ্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করেছিল। তা হল পরিচ্ছন্নতা। সাফাইয়ের কাজ আমি করতাম না কোনওদিন। সেজন্য বাড়িতে লোক রেখেছিলাম। তবে আমি সেই সময় উপলব্ধি করি যে, পরিচ্ছন্নতা কতখানি জরুরি।' বার্টনের কথায়, 'আমি ইনস্টাগ্রামে মিসেস হিঞ্চকে দেখি।  তিনি কত সুন্দরভাবে সবকিছু পরিষ্কার করতেন। আমিও মনে মনে ঠিক করি যে, সাফাইয়ের কাজ করব।' 

আরও পড়ুন : খুন না সুইসাইড? কালিম্পঙে দম্পতির রক্তাক্ত দেহ

বার্টন আরও জানান যে, করোনা ও লকডাউনের সময় তিনি নিজে হাতেই গোটা বাড় পরিষ্কার করতেন। তারপরই ভাবলেন, 'একজন সাফাইকর্মী হিসেবে তিনি নিজেও কাজ করতে পারবেন না কেন?' যেই ভাবা সেই কাজ। চাকরি ছেড়ে দিলেন তিনি। শুরু করলেন সাফাইকর্মীর কাজ। এখন ৬ জনের বাড়িতে সাফাইকর্মী হিসেবে কর্মরত তিনি। 

বার্টন বলেন, 'একথা ঠিক যে, আমার উপার্জন আগের থেকে অনেক কমেছে। তবে আমি খুশি। যা টাকা জমানো আছে তাতে আমার চলে যাবে। আসলে বেঁচে থাকাটা জরুরি। আর সাফাই করে আমি অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।'