scorecardresearch
 

Online Fraud Using SMS Header: এসএমএস হেডার, প্রতারণার নয়া ছক, বাঁচবেন যেভাবে...

Online Fraud Using SMS Header: হেডার বা এসএমএস হেডার হল ৬টি বর্ণ বা অক্ষর বা সংখ্যা সমন্বিত একটি ইউনিক আইডি কোড। যেটি সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দফতরকে উপস্থাপিত করে।

অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে হলে সতর্ক থাকতে হবে সব সময় (প্রতীকী ছবি) অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে হলে সতর্ক থাকতে হবে সব সময় (প্রতীকী ছবি)
হাইলাইটস
  • ইন্টারনেট, মোবাইল ছাড়া আমাদের জীবন ভাবা যায় না
  • প্রতারকরা সব সময় ওৎ পেতে রয়েছে
  • একটু এদিক-ওদিক হয়েছেন মানেই ক্ষতি হয়ে যাবে

ইন্টারনেট, মোবাইল ছাড়া আমাদের জীবন ভাবা যায় না। তবে তা ব্য়বহার করতে গিয়ে অনেক সময় ঝক্কির মধ্যে পড়তে হয়। নেটওয়ার্কের কারণ তা-ও আমাদের হাতের মধ্যে রয়েছে। তবে যেটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই, তা হল প্রতারকদের নজর। 

তারা সব সময় ওৎ পেতে রয়েছে। একটু এদিক-ওদিক হয়েছেন মানেই ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। এমনই একটি হল এসএসএম-এর মাধ্যমে প্রতারণা। জানাচ্ছিলেন আইইএমল্য়াবসের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার ঋত্ত্বিক লাল।

এস এম এস হেডার কী? 
তিনি জানান, হেডার বা এসএমএস হেডার হল ৬টি বর্ণ বা অক্ষর বা সংখ্যা সমন্বিত একটি ইউনিক আইডি কোড। যেটি সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দফতরকে উপস্থাপিত করে। সাধারণত আমাদের ফোনে কোনও ব্যক্তির পাঠানো এসএমএস সেই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর মারফত পাঠানো হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: Ola-Uber-কে টেক্কা দিতে কলকাতার অ্যাপ-ক্যাব চালকেরা আনলেন ryde!

আরও পড়ুন: Haringhata Live! মুরগি বেছে নিন, কাটাকুটি হবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে

কিন্তু কোনও প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ কোনও দফতরের এসএমএস এলে, তা একটি ইউনিক হেডারের মাধ্যমে চিত্রিত হয়ে থাকে। আমরা সেই হেডারের মাধ্যমে সেই বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বা দফতরকে সহজেই চিনে উঠতে পারি। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে জিও কোম্পানির তরফ থেকে আসা এসএমএস-এর হেডার হয় JIOINF। আগে এই হেডারকে বলা হত Sender ID। কিন্তু পরবর্তীতে TRAI-এর নিয়ম মতো, তা বদলে নাম রাখা হয় SMS Header। 

আরও পড়ুন: COVID-ধাক্কা, প্রতি ৩ জনের মধ্যে একজনের ব্যক্তিগত জীবনে খারাপ প্রভাব 

আরও পড়ুন: ঝমঝমিয়ে লোকাল চলতেই ফের জায়গা দখল ওদের! বাড়ছে কদর 

কখন হেডারসহ ম্যাসেজ আসতে পারে? 
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন কোনA কোম্পানির প্রমোশনাল বিভিন্ন প্ল্যান গ্রাহকদের জানানোর জন্য, ফোনে কোনও ওটিপি এলে, রিচার্জ, কোনও ট্রানজাকশন, কোনও সার্ভিস ইমপ্লিসিট-এক্সপ্লিসিট ইত্যাদি বহু ক্ষেত্রে এই হেডারওয়ালা ম্যাসেজ আপনার ফোনে আসতে পারে।

কীভাবে প্রতারকরা এসএমএস হেডার ব্যবহার করে? 
TRAI অর্থাৎ Telecom Regulatory Authority of India প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য হেডার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে দেয়। যার ফলে সে-সব প্রতিষ্ঠান একটি ম্যাসেজ তাদের প্রতিটি গ্রাহকের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দিতে পারে। প্রতারকরা এইখানেই এই পদ্ধতির অপব্যবহার করে থাকে মূলত দু'ভাবে -

  • ক. তারা নিজেদের নামে প্রথমে একটি সংস্থা বানায় এবং ট্রাই-এর কাছে এসএমএস হেডার রেজিস্ট্রেশনের দাবি জানায় 
  • খ. তারা কোনও সাধারণ কোম্পানিতে গিয়ে একজন ক্লায়েন্ট হিসেবে হেডার সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করে

সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন একটি ম্যাসেজ ফ্রড কিনা? 
সাধারণত প্রতারকরা যে ম্যাসেজ করে থাকে, তাতে কোনও না কোনও ভাবে তারা প্রতারণার ফাঁদ ছড়িয়েই রাখে। যেমন কোনও পাইরেটেড লিঙ্ক অথবা পুরষ্কার জেতার ভুয়ো তথ্য, কিংবা ব্যাঙ্কের নামে ওটিপি অথবা এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার ডিমান্ড ইত্যাদি।

তাই গ্রাহককে বুঝতে হবে যে সমস্ত তথ্য একান্তই ব্যক্তিগত কিংবা যেগুলো আদতে হওয়া অবাস্তব (টাকা বা পুরষ্কার জেতার ম্যাসেজ) সে-সব যদি কখনও কোনও মেসেজে দেখা যায়, তবে তা অবশ্যই প্রতারণার উদ্দেশ্যেই বানানো।

কী কী সমস্যা হতে পারে? 
এই সমস্ত পাইরেটেড লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই গ্রাহকের ফোনে ইন্সটল হতে পারে ম্যালওয়্যার। যা পুরো ডিভাইসের কন্ট্রোল নিয়ে ফেলতে সক্ষম। আপনার গ্যালারি এমনকি ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং মারফত গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও তুলে নিতে পারে তারা। অজান্তেই বাইরের অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন তারা।

আরও পড়ুন: ধান-ধনুক আর নাচ-গানে বাংলার মেয়েদের কার্তিক পুজো, লোকগানে লুকিয়ে সে ইতিহাস

আরও পড়ুন: জাতীয় পতাকায় পরিবর্তন চেয়েছিলেন সত্যজিৎ, কারণ জানেন?

এই সমস্ত প্রতারকদের খুঁজে বের করার উপায় এবং TRAI এর ভূমিকা
প্রথমে ট্রাই-এর অধীনস্থ একটি ওয়েবসাইট https://smsheader.trai.gov.in -এখানে লগ ইন করুন। 

তারপর ৬ কোডসমন্বিত হেডার এন্টার করুন। করা মাত্রই আপনার সামনে খুলে যাবে প্রেরক গোষ্ঠীর অ্যাড্রেস। মানে যারা পাঠিয়েছে, তাদের তথ্য।

সেই প্রেরক গোষ্ঠীর নামে অভিযোগ জানানো হলে সেই কোম্পানিতে খোঁজ চালানো হবে। সেই কোম্পানি একটি প্রতারক কোম্পানি হয়ে থাকে, যদি তাই হয় তবে TRAI-DOT-কে জানানো হয় হেডার এর অপব্যবহারের সম্বন্ধে।

টেলিকম কোম্পানির মারফত জানা হয় যে সেই হেডার থেকে কতগুলি এসএমএস গ্রাহকদের কাছে গিয়েছে। সেই প্রতিটি এসএমএস-কে স্প্যাম অথবা ফেক ট্যাগ করে দেওয়া হয় এবং ট্রু কলার সহ অন্যান্য নানা অ্যাপ, যেগুলি এই অনলাইন ফিসিং কে শনাক্ত করতে পারে সেখানে এই হেডারগুলি কে স্প্যাম ট্যাগ করে দেওয়া হয়। 

সুরক্ষিত থাকার উপায়
সতর্ক থাকে হবে। পরামর্শ ঋত্ত্বিক লাল। জানান, চেনাজানা প্রেরক ছাড়া অর্থাৎ ব্যাঙ্ক বা রিচার্জ কোম্পানি বা অন্যান্য বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের হেডার ব্যতীত অন্য কোনও সন্দেহভাজন হেডার-এর এসএমএস দেখলে তা এড়িয়ে যান। যদি একান্তই বুঝতে না পারেন, তবে যাঁরা অভিজ্ঞ তাঁদের থেকে সাহায্য নিন। 

কোনও প্রতিষ্ঠানের নাম করে কোনও এসএমএস এলে যদি তাতে আপনার একান্ত পার্সোনাল তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা পিন বা ওটিপি ইত্যাদি চাওয়া হয় তবে তা তৎক্ষনাৎ এড়িয়ে যান। 

যে কোনও লিঙ্ক যার কোনও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট আইডি নেই, সেগুলিতে প্রেস করবেন না। এই আধুনিক যুগে সচেতন থাকাই প্রতারণার থেকে বাঁচবার এক এবং একমাত্র উপায়।

 

 
; ; ;