তবে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রাচীন ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত—এই দুই পঞ্জিকার সময়সূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল। বিশেষ করে কোন তিথিতে কখন সন্ধিপুজোর পুষ্পাঞ্জলি দেবেন কিংবা ষষ্ঠী-সপ্তমীর পুজোর সময় কোনটা, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
দুর্গাপুজোয় ৮৭তম বর্ষে নতুন ভাবনায় তারাপুকুর মিলন সংঘ। জনপ্রিয় থিম শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্যের ভাবনা ও পরিকল্পনায় মণ্ডপে ফুটে উঠেছে ভগবান বিষ্ণুর দশ অবতার। দশাবতারের নানা রূপ ও পৌরাণিক কাহিনি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ থিম। শিল্পকর্ম, আলো এবং মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠবে বিষ্ণুর দশ অবতারের নানা দিক।
পূর্ব পুটিয়ারী প্রগতি সংঘের ৭২তম বর্ষের পুজোয় এবার শ্রদ্ধার্ঘ্য সাহিত্যিক ও কবি সুকুমার রায়কে। শিল্পী সোমনাথ দাসের বর্ণময় ক্যানভাসে বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে বাবুরাম সাপুড়ে, কুমড়ো পটাশ, হুঁকোমুখো হ্যাংলার মতো চরিত্র। থিম 'গপ্পো আর গপ্পো'-য় নস্টালজিয়ার সঙ্গে ফুটে উঠেছে সুকুমার রায়ের নানা মজার সৃষ্টি।
ইতিমধ্যেই বেলুড় মঠের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ঠ ও কখন কোন পুজো হবে, তা বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। বেলুড় মঠের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পুজো। হাজার হাজার ভক্ত বেলুড় মঠের কুমারী পুজো দেখার জন্য বছরভর অধীর অপেক্ষায় থাকেন।
বড়িশা সর্বজনীন দুর্গোৎসবে আশি বছরে থিম '৮০ তে আসিও না ৮-এর তরে'। মন্ডপ জুড়ে ফুটে উঠবে সিপাই বিদ্রোহের নানা ইতিহাস। যাকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি ৮ থেকে ৮০ সবাইকে টানতে মণ্ডপ শয্যায় থাকছে তালপাতার সেপাইও। এটি ১৮৫৭ সালের সিপাই বিদ্রোহর পরবর্তী সময়ে নির্মিত জনপ্রিয় খেলনা। যা ছিল তৎকালীন সাহিত্যিক, কবি ও সাধারণ মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের প্রতীক। দেখুন সেই প্যান্ডেল।
দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিনই বাকি। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরবে, সেই আনন্দে মত্ত বঙ্গবাসী। কুমরোটুলিতে বেড়েছে ব্যস্ততা, পাড়ায় পাড়ায় চলছে প্যান্ডেলের কাজ। পুজো শপিংও শুরু হয়ে গেছে। কারণ আর একমাসও বাকি নেই পুজো আসতে। আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। তার আগে মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালিত হবে ১০ অক্টোবর শনিবার।
সাধারণভাবে এই পুজো কল-কারখানায় পালিত হলেও, এখন কিন্তু পাড়াতে পাড়াতে বিশ্বকর্মা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে ঘুড়ি উৎসব । কম বেশি প্রত্যেক বছরেই বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখ একই থাকে, তা হল ১৭ সেপ্টেম্বর।
প্রতি বছরই গর্ভগৃহে ঢুকে বিগ্রহ দর্শনের সুযোগ থাকে। কিন্তু এই বছর থেকে সেই নিয়মে বদল আনা হয়েছে। এই বছর থেকে কৌশিকী অমাবস্যায় গর্ভগৃহে কারোর প্রবেশ নয়। তাহলে কোথায়, কীভাবে পুজো দেবেন ভক্তরা?
২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী আরও একটু বিশেষ হতে চলেছে। এই বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের এক বিশেষ সংযোগ তৈরি হতে চলেছে। যা প্রায় ১৫ বছর পর দেখা যাবে।
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে পূজিত হন দেবী দুর্গা। দেবীর দুর্গার মর্তে আগমন ও গমনের পিছনে থাকে কার্যকারণ। এবার দেবীর আগমন ঘোটকে। গমন নৌকোয়।
২৮ অগাস্টের চন্দ্রগ্রহণ আংশিক গ্রহণ হবে। ভারতীয় সময় সকাল ৮ থেকে শুরু হবে গ্রহণ। সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের মোট সময়কাল ৫ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। ভারতে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। প্রধানত ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে গ্রহণ দেখা যাবে।
মহালয়া শব্দের অর্থ ‘মহান আলয়’ বা ‘মহান আশ্রয়’। হিন্দু পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে পিতৃগৃহে আগমন করেন। তাই মহালয়া মানেই মায়ের আগমন। পাশাপাশি এদিন পিতৃপক্ষ শেষ হয়। যাঁরা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন, তাঁরা মহালয়ার দিন সকালেই সেটা সেরে নেন।
তারাপীঠে জাঁকজমকের সঙ্গে এই কৌশিকী অমাবস্যা পালন করা হয় প্রতিবছর। তন্ত্রশাস্ত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো কৌশিকী অমাবস্যা, যা দেবী কৌশিকীর আরাধনা ও সাধনার এক পবিত্র তিথি। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যায় শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধের লগ্ন বা সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের স্মৃতি বিজড়িত।
Rakhi Purnima 2026: ২০২৬ সালে রাখি পূর্ণিমা কবে? শুভ তিথি কতক্ষণ? জানুন শাস্ত্রের নিয়ম।
Rakhi Purnima: রাধা- কৃষ্ণের ঝুলনযাত্রার শেষে শ্রাবণী পূর্ণিমায় রাখি বন্ধন উৎসব হয়। এবছরও একই দিনে ঝুলনযাত্রার সমাপ্তি ও রাখি পূর্ণিমা। তাই দিনটা অত্যন্ত শুভ
তাই বহু শতাব্দী ধরে বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিবাহিত মহিলারা স্বামী, সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি এবং অকাল বিপদ থেকে রক্ষার জন্য নিষ্ঠাভরে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করে আসছেন। এ বছর জুলাইতে দুদিন এই পুজো করা হবে। তাই শনিবার, ১৮ জুলাই যদি বিপত্তারিণী পুজো করতে না পারেন তবে আবার কবে করতে পারবেন, জেনে নিন।