
কয়েকদিন আগে যখন প্রদ্যোত্ বরদলৈ বিজেপি যোগ দিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বললেন, 'কংগ্রেসের সব ভাল নেতাকেই বিজেপি-তে নেওয়া হবে।' এমনকী বিজেপি যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে অসমে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তন কংগ্রেস নেতায় ছয়লাপ। হিমন্ত নিজেও একদা কংগ্রেসই করতেন।
হিমন্তের স্ট্র্যাটেজিকে কটাক্ষ গৌরবের
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই স্ট্র্যাটেজিকেই কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ। তাঁর বক্তব্য, আসন্ন নির্বাচন হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস বনাম তরুণ গগৈয়ের কংগ্রেসের লড়াই।
অসমে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে তোপ দেগে গৌরব অভিযোগ করেন, রাজ্যে “পরিবারনির্ভর সরকার” চলছে এবং ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে শাসকদল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে গৌরব বলেন, 'বর্তমান সরকার জনস্বার্থ ও জবাবদিহি থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনে পরিণত হয়েছে। এই সরকার আর জনগণের জন্য নয়, বরং শর্মার পরিবারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।'
কংগ্রেস নেতা বর্তমানে বিজেপিতে কেন জায়গা পাচ্ছেন
কংগ্রেস নেতার দাবি, সামান্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্যও মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, যা রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। বলছেন, 'এটা অসমের সংস্কৃতি নয়'। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের আমলের একাধিক প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বর্তমানে বিজেপিতে কেন জায়গা পাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির রাজ্য দফতর এখন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতাদের দখলে, পুরনো বিজেপি কর্মীদের দেখা যাচ্ছে না।
গৌরবের দাবি, এবারের নির্বাচন আসলে দুই ধারার লড়াই, একদিকে বিজেপির ভেতরে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী, অন্যদিকে কংগ্রেসের পুনর্গঠিত শক্তি, যা তরুণ গগৈয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, এই লড়াইয়ের মাধ্যমে অসমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে।