
২০২৬ সালে শুধু বাংলায় নয়, বিধানসভা নির্বাচন হবে অসমেও। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্যেও ভোট রাজনীতির উত্তাপ তুঙ্গে। যার নির্যাস, নতুন বছরের প্রথম দিনেই ভোটের সুর বেঁধে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অসমে বিধানসভা ভোটে আইডেন্টিটি বা পরিচয়কে অন্যতম গুরুত্ব দিলেন হিমন্ত। হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথায়, 'আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পরিচিতি ও উন্নয়নই একমাত্র ফোকাস।'
অসমেও ভোটে ইস্যু অনুপ্রবেশ
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যু এবারের নির্বাচনে অসমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে 'নতুন দিনের আলাপ' কর্মসূচিতে হিমন্তের বক্তব্য, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে অসম থেকে তাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অসম সরকার। তাঁর কথায়, 'অসমের ভূমিপুত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করতে পারলে, রাজ্যের উন্নতি সম্ভব নয়।' বস্তুত, চলতি সপ্তাহে অসম সফরে গিয়েও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে তাড়ানো ও অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার পক্ষে জোরাল সওয়াল করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই একই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গেও সরব হয়েছেন শাহ। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম, দুই রাজ্যেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই মূল হাতিয়ার করছে বিজেপি।
চিহ্নিত করে পুশ ব্যাক নীতি
হিমন্ত বলছেন, 'আর নরম হওয়ার প্রশ্ন নেই, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনও ব্যক্তি বিদেশি চিহ্নিত হলেই, ডেপুটি কমিশনার তাকে দেশ ছাড়তে নির্দেশ দিতে পারেন। আমাদের উন্নয়ন যাতে আমাদের রাজ্যের বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছয়, সেটাই নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।' অতীতে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, যখন কোনও ব্যক্তি ট্রাইবুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানাবে। এরপর বিদেশমন্ত্রক ওই চিঠি বাংলাদেশ সরকারকে ফরোয়ার্ড করবে। গোটা প্রক্রিয়া বেশ সময় সাপেক্ষ। অনেক সময় কোনও উত্তর মেলেনি। হিমন্ত বলছেন, 'এবার আর সেই অপশন নেই। অবৈধ ভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের আমরা পুশ ব্যাক করে দেব।'
হিন্দুদের উদ্বেগ নিয়ে সরব হিমন্ত
গত ৫ বছরে মোট ১ হাজার ৫১৭ জনকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণা করা হয়েছে। তারা অবৈধ নাগরিক হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। গত বছর মে মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩ জনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। হিমন্তের কথায়, 'আমরা হিন্দুদের দুশ্চিন্তাকে এড়িয়ে যেতে পারি না। যে সব মুসলিম অসমের বা এই দেশের বৈধ নাগরিক, তাঁদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলেই একজোট হয়ে অসমের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ধুবরিতে প্রায় ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে, হিন্দুরা এতে ভীত। একই সঙ্গে লাভ জিহাদও হিন্দুদের মনে ভয়ের সঞ্চার করছে। অনুপ্রবেশকারীদের এই কার্যকলাপ রুখতে হিন্দু ও মুসলিম, দুই সম্প্রদায়কেই একজোটে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই হিন্দুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরবে। বহু বিবাহ, নাবালিকা বিয়ে নিষিদ্ধ করার যে নীতি আমরা নিয়েছি, তাতে বহু মুসলিম মহিলা খুশি। তাঁরা খোলাখুলি আমাদের প্রশংসা করছেন।'