
অসমে ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে নিশানা করতে গিয়ে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একহাত নিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে দিল্লির রিমোট কন্ট্রোলে চালায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কন্ট্রোলে চলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ঠিক যেমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্ট্রোলে চলেন নরেন্দ্র মোদী।
রাহুল অসমের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই রাজ্যটি বিভিন্ন পরিচয়, সম্প্রদায় ও বিশ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধন। তাঁর মতে, প্রতিটি গোষ্ঠীরই শাসনব্যবস্থায় সমান অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত। তিনি কংগ্রেসের বিকেন্দ্রীকরণের আদর্শের সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থার তুলনা করেন। অনুচ্ছেদ ২৪৪এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই বিধান স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্বশাসনের ক্ষমতা দেয় এবং তৃণমূল স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করে। এর কৃতিত্ব আমি কংগ্রেসকেই দিই।'
অসমে আদানি, আম্বানিদের প্রসঙ্গ টানলেন রাহুল
রাহুলের অভিযোগ, বর্তমানে অসমে বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ জমি তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি ও রামদেবের নেতৃত্বাধীন সংস্থাগুলির নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, হাজার হাজার বিঘা জমি কর্পোরেট ও শিল্প প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ধরনের নীতির ফলে সাধারণ মানুষের জমি ও জীবিকা বিপন্ন হতে পারে।
মোদীকে ট্রাম্পের হাতের পুতুল বলে নিশানা
তিনি আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদী স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ভারত-আমেরিকা চুক্তি দেশের কৃষি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তথ্য সার্বভৌমত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষি ক্ষেত্র বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, যা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাইরের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনাও তিনি তুলে ধরেন। রাহুল আরও অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে আমেরিকান সংস্থাগুলির কাছ থেকে বড় পরিসরে ক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়তে পারে, যা ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমএসএমই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর দাবি, এই চুক্তিতে ভারত যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে তেমন কোনও বাস্তব সুবিধা পায়নি।
রাহুলের কথায়, 'এই চুক্তি এবং সামগ্রিক নীতিনির্ধারণের ওপর বহিরাগত চাপ কাজ করছে। নরেন্দ্র মোদীর উপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে “স্যার” বলে সম্বোধন করেন, যা একটি বৃহত্তর ক্ষমতার ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।'
হিমন্তকে বললেন 'মিনি মোদী'
অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে গান্ধী তাঁকে 'মিনি মোদী' বলে আখ্যা দেন এবং তাঁকে দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে Narendra Modi ও Amit Shah-এর নির্দেশে পরিচালিত হন এবং স্বাধীনভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেন না।