
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় অর্ধেকের বেশি বিধায়কের নামে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেল Association for Democratic Reforms (ADR)।
ADR-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯১ জন বর্তমান বিধায়কের মধ্যে ১৩৬ জন অর্থাৎ প্রায় ৪৭ শতাংশ বিধায়ক নিজেরাই শপথপত্রে স্বীকার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ১০৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। সমস্ত ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই নির্বাচনকে ঘিরেই বর্তমান বিধায়কদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে ADR।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু বিধায়কের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অন্তত ৮ জন বিধায়ক নিজেদের হলফনামায় খুন সংক্রান্ত মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২৯ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে ২২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ২২৩ জন বিধায়কের মধ্যে ৯২ জন অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ বিধায়ক নিজেদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে বিজেপির ৬৪ জন বিধায়কের মধ্যে ৪২ জন অর্থাৎ প্রায় ৬৬ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পত্তির দিক থেকেও বড় তথ্য সামনে এসেছে। ADR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা ২৯১ জন বিধায়কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮২১.৫০ কোটি টাকা। গড় হিসেবে একজন বিধায়কের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২.৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৫২ জন বিধায়ক অর্থাৎ ৫২ শতাংশই কোটিপতি।
দলভিত্তিক সম্পদের হিসাব করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ২২৩ জন বিধায়কের গড় সম্পদ প্রায় ৩.২৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিজেপির ৬৪ জন বিধায়কের গড় সম্পদ প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বিধানসভায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০৪ জন বিধায়ক অর্থাৎ প্রায় ৩৬ শতাংশ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ১৮২ জন বিধায়ক অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ নিজেদের স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন।
বয়সের নিরিখেও একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। ১২৪ জন বিধায়কের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, যা মোটের প্রায় ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ১৬৭ জন বিধায়কের বয়স ৫১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, যা মোটের প্রায় ৫৭ শতাংশ।
এছাড়া মহিলা প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। বিশ্লেষণ করা ২৯১ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৪৫ জন অর্থাৎ প্রায় ১৫ শতাংশই মহিলা বিধায়ক।
রাজ্যের নির্বাচনের আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনীতিতে অপরাধমূলক মামলার উপস্থিতি এবং সম্পদের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী নির্বাচনে এই বিষয়গুলি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।