
বহরমপুরের জনসভা থেকে বেলডাঙা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চে উঠেই বলেন, 'আমায় এখানে আসার আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে বলা হয়েছিল, সভা করার দরকার নেই। ঝামেলা, অশান্তি হতে পারে। আমার যতটুকু পরিচিতি আছে, প্রশাসনিক ও সাংবাদিক মহলে, সকাল ১১টা থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি যা বুঝলাম, এই অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে BJP-র বাবুরা। আর একজন গদ্দার তৈরি হয়েছে এই মাটিতে। সে-ও ইন্ধন দিচ্ছে। একটা গদ্দার, মীরজাফর, দামি প্রার্থীকে আপনারা বিদায় দিয়েছেন। বাকিদেরও ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মে ধর্মে বিভাজন তৈরি করে, মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে যাঁরা হাতিয়ার তুলে দেয়, তাঁদের জায়গা নেই এই মাটিতে।'
হেল্পলাইন নম্বর চালু
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলাশাসকের তরফে পরিযায়ী শ্রমিক ভাইয়ের জন্য আলাদা নম্বর চালু করা হচ্ছে। ৭৪৩০০০০০৩০/৯১৪৭৮৮৮৩৮৮ এই দুই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে যে কোনও পরিস্থিতিতে সহায়তা চাইতে পারেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। প্রশাসন সবরকম আইনি সাহায্য দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করবে। একইসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দীন শেখের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হবে।
প্ররোচনায় পা দেবেন না...
এদিন অভিষেক বলেন, 'কোনও বুথে যদি কেউ BJP-র বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করে তাহলে মুর্শিদাবাদ শোষিত হবে এবং BJP-র উন্নতি হবে। গতকাল বেলডাঙায় যা হয়েছে, সেরকম কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর আক্রমণ হয়েছে। তৃণমূল তা সমর্থন করে না। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আখেরে লাভ BJP-র। যে বাবরি মসজিদ নিয়ে বড় বড় কথা বলছে, সে BJP-রই প্রার্থী ছিল। তাঁর আসল চেহারা, প্রকৃত স্বরূপ খুব তাড়াতাড়ি মানুষের সামনে আসবে।' তিনি নাম না করে আদতে বিতাড়িত সাংসদ হুমায়ুন কবীরের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, বলছে রাজনৈতিক মহল। তিনি আরও বলেন, 'অগ্রজ ও অনুজ সকলকে অনুরোধ করব, এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। কোনও ভাবে BJP-কে অক্সিজেন দেওয়া যাবে না। আমি আজ এখানে সভা করতে না এলেও BJP-কে অক্সিজেন দেওয়া হত।' অভিষেকের সংযোজন,'আলাউদ্দীন শেখের ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে অনুরোধ করেছি, দোষীদের শাস্তি দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। উনিও আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আইন হাতে তুলে নিলে, BJP এবং গদ্দারগুলোর লাভ।'