
শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকে কয়লার খাদান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়ে বিরাট প্রতিশ্রুতি দিলেন অভিষেক। আগামী দু’মাসের মধ্যেই শালতোড়ায় সবকটি পাথর খাদান এবং ক্র্যাশারের কাজ চালু হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন তৃণমূল নেতা।
এদিন অভিষেক বলেন, "আগামী দুমাসের মধ্যে শালতোড়ায় সবকটি পাথর খাদান এবং ক্র্যাশারের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেটা হলেই ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। সরকারি যে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮টি মাইন রয়েছে। এই ১৮টি মাইন শুরু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোক কর্মসংস্থানের বাড়তি সুযোগ পাবে। গত দু’মাস ধরে এর উপর কাজ করেছি। সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩১ মার্চের আগে সব কাজ চালু করে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম তৃণমূল।"
অভিষেকের দাবি, বর্তমানে পাঁচটা খাদান চালু রয়েছে। প্রায় ১২০টি ক্রাশারের কাজ চলছে। ২৫০টির উপরে ক্রাশার রয়েছে। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, "একটা মাইনের সরকারি অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং সেফটির এনওসি পেতে গেলে মাসের পর মাস লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে যদি খাদান চালুও করতে হয়, ৩০-৩২ লক্ষ জমা দিতে হয়। তার পরে অনৈতিক ভাবে ডিজি মাইন-কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। শালতোড়ার বিধায়ক বিজেপির। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিল বিজেপির। মানুষকে নিজেদের অধিকারের স্বার্থে লড়তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ঘুষ দিতে হয়।"
অন্যদিকে এদিন বাঁকুড়ায় বিজেপিকে হারিয়ে ১২–০ করার ডাক দেন সাংসদ অভিষেক। একইসঙ্গে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়েও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। তিনি বলেন, "২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে চারটিতে আপনারা তৃণমূলকে জিতিয়েছিলেন। বাকি আটটিতে জিতেছিল বিজেপির প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের লোকসভায় চার থেকে বেড়ে আমাদের ছয় হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বিষ্ণুপুর লোকসভার একটি আসন পড়ে খণ্ডঘোষে। বাঁকুড়া লোকসভার একটি আসন পড়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। বিষ্ণুপুরকে ছয় মারতে হবে, বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে।"