Advertisement

Bengal Election 2026: প্রিয়, সোমেন, সুদীপদের মতো দিলীপ-রিঙ্কুও 'পাওয়ার কাপল' হওয়ার পথে?

এবার কি ভোটের ময়দানে দিলীপ-পত্নী? কারণ বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হতে চান দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। কোন কোন আসন তাঁর পছন্দের তাও জানিয়েছেন। প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু মজুমদার। সূত্রের খবর, তিনি না কি বীজপুর বা রাজারহাট-নিউটাউন বা মেদিনীপুরে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। আর রিঙ্কু মজুমদারের এমন ইচ্ছে মনে করিয়ে দিচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির অতীতকে। কারণ, স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সে অর্থে নতুন কিছু নয়।

Bengal Election 2026Bengal Election 2026
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 23 Feb 2026,
  • अपडेटेड 4:28 PM IST

 এবার কি ভোটের ময়দানে দিলীপ-পত্নী? কারণ বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হতে চান দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। কোন কোন আসন তাঁর পছন্দের তাও জানিয়েছেন। প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু মজুমদার। সূত্রের খবর, তিনি না কি বীজপুর বা রাজারহাট-নিউটাউন বা মেদিনীপুরে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। আর  রিঙ্কু মজুমদারের এমন ইচ্ছে মনে করিয়ে দিচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির অতীতকে। কারণ, স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সে অর্থে নতুন কিছু নয়। একদা যে-সনিয়া গান্ধী রাজনীতির ধারপাশ দিয়েও হাঁটেননি, রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর  তাঁকেই কংগ্রেসের রাশ ধরতে হয়েছিল। ১৯৯১ ও ২০০৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে গান্ধী পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়েছিল দলের একটা বড় অংশ। যদিও, সে পথে হাঁটেননি তিনি। নব্বইয়ের দশকে, বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে লালুপ্রসাদ যাদবকে যখন গ্রেফতার করেন সিবিআই-কর্তা উপেন বিশ্বাস, তখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন লালু-পত্নী রাবড়ি দেবী। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তখন এক-আলোবর্ষ থেকেও দূরে ছিল। বঙ্গ রাজনীতিতে এমন উদাহরণ রয়েছে। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চুটিয়ে রাজনীতিতে করেছেন, এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই। যেমন সিপিআই-এর গীতা মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়। বঙ্গ রাজনীতিতে এমন উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা-

প্রিয়রঞ্জন ও দীপা দাশমুন্সি
নব্বইয়ের দশকে, একটু বেশি বয়সেই বিয়ে করেন কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী। গ্রুপ থিয়েটার ও ছোট পর্দার অভিনেত্রী দীপার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। বছরদশেক বাদে, প্রিয়রঞ্জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি হন। এবং দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে ভেন্টিলেশনের থাকেন। ইতিমধ্যেই রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েন দীপা দাশমুন্সি।  প্রথমে গোয়ালপোখর বিধানসভা ও পরে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে জয়ী হন তিনি। 

সোমেন ও শিখা মিত্র
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে যে-ইতিহাস তৈরি করেন একদা যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং  পরবর্তীকালে বাংলায় কার্যত সাইনবোর্ডে পরিণত হয় কংগ্রেস, তার দায় কিন্তু আমহার্স্ট স্ট্রিটের 'ছোড়দা' সোমেন মিত্রর ওপরই বর্তায়। সোমেন-মমতার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। কিন্তু, বামজমানার পতনের মুখে, ২০০৯ সালে তৃণমূলের সমর্থনে লোকসভায় দাঁড়ান ও জয়ী হন সোমেন মিত্র। স্ত্রী শিখা মিত্র তখন দাবি করেন, দল (কংগ্রেস) তাঁর স্বামীকে যথাযথ সম্মান দেয়নি। এরপর, পরিবর্তন-পরবর্তী জমানায়, নির্বাচনী ময়দানে নামেন শিখা। এবং, সোমেন-ঘরনি হয়ে ওঠেন তৃণমূলের ঘরের মেয়ে ।

Advertisement

সুদীপ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়
কংগ্রেস রাজনীতিতে প্রিয়রঞ্জনের সমসাময়িক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিয়ে করেন অভিনেত্রী নয়না দাসকে। সুদীপের সঙ্গে পরিণয়-সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার পর রাজনীতিতে আসেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধিও হন। 

কাকলি ও সুদর্শন  ঘোষ দস্তিদার
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও তাঁর স্বামী সুদর্শন  ঘোষ দস্তিদারকেও বঙ্গ রাজনীতির পাওয়ার কাপল বলা যায়।  কাকলির স্বামী চিকিৎসক  সুদর্শন  ঘোষ দস্তিদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভাতেও স্থান পেয়েছিলেন।

প্রিয়-দীপা, সোমেন-শিখা, সুদীপ ও নয়না-র পথ ধরেই এবার বঙ্গ রাজনীতিতে দিলীপ-রিঙ্কু জুটি নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও আসন্ন বিধানসভা ভোটে রিঙ্কু গেরুয়া শিবিরের টিকিট পেয়ে জয়ী হতে পারেন কিনা তা সময়ই বলবে।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement