
বর্ষশেষের দিনগুলি পশ্চিমবঙ্গেই কাটাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি-র সংগঠনকে চাঙ্গা করছেন। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে কোমর বেঁধেই ভোট ময়দানে নামছে বিজেপি। বস্তুত, SIR প্রক্রিয়া ও সেই প্রক্রিয়া ঘিরে যে রাজনৈতিক সরগরম পরিস্থিতি চলছে পশ্চিমবঙ্গে, তাতে ভোটের বাদ্যি নভেম্বর থেকেই বেজে গিয়েছে, বলাই যায়। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার অমিত শাহ কলকাতায় বুঝিয়ে দিলেন, বর্ষশেষ বা বর্ষবরণ নয়, বিজেপি-র কাছে ২০২৬ সাল মানে ভোটের বছর।
একাধারে অমিত শাহ আজ তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির লিস্ট গোনালেন, তুললেন অনুপ্রবেশ ইস্যুও। একই সঙ্গে কীভাবে বাংলায় বিজেপি-র ভোট বেড়েছে, তারও পরিসংখ্যান দিলেন। উত্তর দিলেন সেটিং নিয়ে প্রশ্নেরও। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, অমিত শাহ ঠিক কী কী ইস্যুতে ছাব্বিশের বিধানসভায় বিজেপি লড়বে, কী কী বললেন শাহ? রইল।
ফের সোনার বাংলা গড়ার ডাক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতোই এবারও সোনার বাংলা শব্দবন্ধ শোনা গেল অমিত শাহের গলায়। বললেন, 'তৃণমূলের নেতৃত্বে আজ বাংলার বিকাশ থেমে গেছে। পুরো দেশে যে বিকাশ হচ্ছে সেটা এই রাজ্যে কাটমানির কারণে বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের সংকল্প ১৫ এপ্রিল ২০২৬ এর পর যখন বিজেপি সরকার হবে তখন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করব। বাংলার মনিষীদের স্বপ্নের বাংলা আমরা তৈরি করব। বিজেপির বীজ বপন হয়েছিল জনসঙ্ঘ থেকে। জনসঙ্ঘ স্থাপন করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ আমরা যখন বলছি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের সরকার তৈরি হবে বলছি তার জন্য যথেষ্ট কারণ আমাদের হাতে রয়েছে।'
দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় বাংলা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির রেজাল্ট প্রসঙ্গে শাহ বললেন, '২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৭% ভোট এবং ২ টি সিট আমরা পেয়েছি। ২০১৬ তে ১০% ভোট এবং ৩ টি বিধায়ক ২০১৯ সালে ৪১% ভোট এবং ২০২১ নির্বাচনে ৭৭ টি সিট পেয়েছিলাম। এর ফলে কংগ্রেস পার্টিও এই রাজ্যে শুন্য হয়ে গেছে। বামেরাও কোনও ভোট পায়নি আর আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি। ২০২৪ নির্বাচনে ৩৯% ভোট পেয়েছি ও ১২ টি আসন পেয়েছি। ২০২৬ সালেও আমরা বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসব। ২০২৪ সালে ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে বিজেপি এবং এনডিএ সরকার হয়েছে। ২০২৬ সালে দুই তৃতীয়াংশ জন সমর্থন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। যাকে এক সময় সোনার বাংলা বলা হত আজ সেই বাংলা নেই। সব ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে যাচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত লাগু করতে দেয়নি। স্বাস্থ্যসাথী লাগু করেছে গত বদলে। কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের লাগু হতে দিচ্ছে না।'
অনুপ্রবেশ ইস্যু
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে শাহ বললেন, 'কেন রাজ্য সরকার বর্ডার ফেন্সিং করার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভৌগলিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ। অনুপ্রবেশকারীরা প্রথমেই বাংলায় ঢুকে গ্রামে গ্রামে ঢুকে যাচ্ছে। পুলিশ কী করছে? অসম, ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাবে কেন অনুপ্রবেশ হয় না? কারণ আপনার সরকার এটি সমর্থন করেন। বাংলার মানুষ এটার পরিবর্তন চাইছে। অনুপ্রবেশ শুধু পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা নয়, বর্তমানে এটি দেশের সুরক্ষা, সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই। তাই সীমান্ত বন্ধ করতেই হবে। সেটা একমাত্র বিজেপি পারবে। '
দুর্নীতি ইস্যু
অমিত শাহ বললেন, 'তৃণমূল সরকার আসার পর থেকে একের পর এক ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। লিস্ট পড়তে গেলে পুরো প্রেস কনফারেন্স শেষ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কি উত্তর দিতে পারবেন কেন আপনার মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ২৭ কোটি টাকা পাওয়া যায়? এই সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই বাংলার মানুষদের প্রতি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রনাথ সিনহা, কুনাল ঘোষ, পরেশ অধিকারী সহ তৃণমূলের বহু নেতা মন্ত্রী জেলে গেছেন। বাংলার মানুষ আর চুপ করে থাকবে না।'
মন্দির ও মসজিদের রাজনীতি
পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মন্দির গড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলান্যাস করছেন। অন্যদিকে মসজিদ গড়ার জন্য শিলান্যাস হচ্ছে। এই আবহে অমিত শাহের বক্তব্য, 'মসজিদ যিনি গড়ছেন, তিনি তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিধায়ক। যারা মসজিদের বিরোধিতা করছে, তারা তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও কারণে মন্দির বানালে স্বাগত। কিন্তু মমতাজি অনেক দেরি করে ফেলেছেন।'
তৃণমূল ও বিজেপি সেটিং তত্ত্ব
এক সাংবাদিক জিগ্গেস করলেন, বামেরা অভিযোগ করছে, তৃণমূল ও বিজেপি-র সেটিং রয়েছে। জবাবে অমিত শাহ বললেন, 'মোদীজি এখানে কয়েকদিন আগেই এখানে সভা করতে এসে বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন। মমতাজি যদি চান বিভ্রান্ত করতে, তো করুন। ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও নেতা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়দাতাদের সঙ্গে নেই। এটা বিজেপি-র সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালে তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলব। দেখুন, এই রকমের নীতিতেই চলেছিল বামেরা। কিন্তু সরকার বদলে গিয়েছে।'