
পশ্চিমবঙ্গে ছাব্বিশের ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। আর এমন উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই রাজ্যে এসেছেন বিজেপি নেতা তথা বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। সেই সফরেই কোচবিহারের এক জনসভায় মিঠুন বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিমবাংলাদেশ বানাতে চাইছে। যদিও সেই চেষ্টা কখনওই সফল হবে না।
এ দিনের সভায় প্রথম থেকেই অ্যাটাকিং মোডে ছিলেন মিঠুন। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেন। বিশেষত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মমতার মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হন। মিঠুনের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হয়তো ভাবছেন, এটা আলাদা কোনও দেশ। যদিও বিষয়টা একবারেই তেমন নয়।
তিনি বলেন, 'বাঁকুড়ার একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছেন, কলকাতার হোটেল থেকে অমিত শাহকে বেরতে তিনিই নাকি অনুমতি দিয়েছেন। তাই আমি চাই তিনি সরাসরি বলে দিন যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর যে দিন তিনি এই কথা বলবেন, সে দিনই নেমে আসবে বিপদ।'
মিঠুন আরও যোগ করেন, 'এই দেশটা আলাদা নয়, যেমনটা তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হয়তো ভাবতে শুরু করেছেন।'
কাশ্মীর ফাইলস প্রসঙ্গ তুলেছেন
এ দিন সভায় তিনি নিজের অভিনীত ছবি কাশ্মীর ফাইলস নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানান, এই ছবিতে দেখানো হয়েছে ঠিক কীভাবে নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বাংলাতেও এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল।
পশ্চিমবঙ্গ হবে ওয়েস্ট বাংলাদেশ...
মিঠুনের দাবি, আমাদের সাধের পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিমবাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে। আর সেই চেষ্টা কখনওই পূরণ হবে না।
পাশাপাশি তিনি সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীর কথাও এ দিন নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মা দুর্গার গান গেয়েছিলেন লগ্নজিতা। আর সেই গান গাওয়ার জন্য তাঁকে হেনস্তা করা হয়।
মিঠুনের দাবি, কেউ ভাবতেই পারে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছে। তবে যতদিন শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকবে, ততদিন এই রাজ্যকে তিনি কিছুতেই বাংলাদেশ হতে দেবেন না। শুধু তাই নয়, তাঁরা যে সংববিধানের উপর বিশ্বাস রেখেই নিজেদের সংযত রেখেছেন, সেটাও পরিষ্কার করে দেন তিনি।
স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন
এ দিনের সভা থেকে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিঠুন। কেন আয়ুষ্মান ভারত রাজ্যে চালু হল না, সেটা নিয়েও তোলেন প্রশ্ন। পাশাপাশি বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথমেই আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক
কোচবিহার থেকে তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলার ডাক দিলেন মিঠুন। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তিনি কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল সমর্থকদেরও পাশে থাকার আহ্বান জানালেন। তাতেই দুর্নীতি মুক্ত বাংলা গড়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।