Advertisement

Left Congress Alliance in West Bengal: কেন বাম-কংগ্রেস 'তৃতীয় বিকল্প' হচ্ছে না বাংলায়? 'মেরুকরণের' সুবিধা ভোগ করেছে এরাও

কাট টু ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর রাখঢাক নয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হল, বাম ও কংগ্রেস জোট গড়ে লড়বে। সামনে রাখা হল শিলিগুড়ি মডেলকে। বস্তুত, সিপিএম-এর পক্ষে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধা মতাদর্শগত দিক থেকে কত বড় একটি ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলে রাজনৈতিক ভাবে সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল কংগ্রেস।

পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের উত্থান ও পতনপশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের উত্থান ও পতন
অরিন্দম গুপ্ত
  • কলকাতা,
  • 20 Jan 2026,
  • अपडेटेड 1:33 PM IST
  • সিপিআই ছিল কংগ্রেসপন্থী ও সিপিএম ছিল কংগ্রেস বিরোধী
  • তা হলে সিপিএম এবং কংগ্রেস কাছাকাছি এল কীভাবে?
  • জোট গড়ে আদতে দুই দলেরই কিছু লাভ হল পশ্চিমবঙ্গে?

সে বার একটি অঘটন ঘটেছিল। যদিও রাজনীতিতে কোনও কিছু অঘটন নয়, সবই সম্ভাবনার খেলা। তবুও বঙ্গ রাজনীতিতে ওই ঘটনা চমকই ছিল। ২০১৫ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভোট। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে বামেদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ওই নির্বাচন। রাজ্যে তখনও বামেরা প্রাসঙ্গিক। কিন্তু হাওয়া মমতা  অশোক ভট্টাচার্য দাঁড়ালেন শিলিগুড়ির মেয়র পদে। জিতলেন। প্রবল মমতা হাওয়া সত্ত্বেও। প্রশ্ন হল, কীভাবে?

এটাই ছিল শিলিগুড়ি মডেল। পশ্চিমবঙ্গে বাম ও কংগ্রেসের জোটের বীজ পোঁতা হল। শিলিগুড়িতে সে বার বাম ও কংগ্রেস অলিখিত জোট গড়ে লড়েছিল। যার নির্যাস, ২০১৫ সালে শিলিগুড়ি পুরভোটে ৪৭টি আসনের মধ্যে বামেরা পেল ২৩টি আসন, তৃণমূল কংগ্রেস পেল ১৭টি ও কংগ্রেস পেল ৪টি ও বিজেপি দুটি আসন। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে বামেরা যেন অক্সিজেন পেল। কংগ্রেসও খানিক চাঙ্গা হল। 

সিপিআই ছিল কংগ্রেসপন্থী ও সিপিএম ছিল কংগ্রেস বিরোধী

কাট টু ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর রাখঢাক নয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হল, বাম ও কংগ্রেস জোট গড়ে লড়বে। সামনে রাখা হল শিলিগুড়ি মডেলকে। বস্তুত, সিপিএম-এর পক্ষে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধা মতাদর্শগত দিক থেকে কত বড় একটি ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলে রাজনৈতিক ভাবে সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল কংগ্রেস।

১৯৪৭ সালে জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই মার্কসবাদীরা কংগ্রেসকে শ্রেণিশত্রু হিসেবে বিরোধিতা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে তা তীব্রতর হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষও একই রকম পরিস্থিতিতেই অভ্যস্ত ছিল দশকের পর দশক ধরে।  ১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হল। সে সময় রুশপন্থী সিপিআইয়ের সঙ্গে চিনপন্থী সিপিএমের সংঘাতের পৃষ্ঠভূমিতে অন্যতম বিষয় ছিল, সিপিআই ছিল কংগ্রেসপন্থী, সিপিএম কংগ্রেস বিরোধী।

তা হলে সিপিএম এবং কংগ্রেস কাছাকাছি এল কীভাবে?

বৃহত্তর আঙ্গিকে দেখতে গেলে, ভারতে বিজেপি-র শক্তিবৃদ্ধি একটি অন্যতম কারণ। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কংগ্রেসের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা শেষ করে দেওয়ার অভিযানের চেয়ে। অ-বিজেপি এবং অ-কংগ্রেসি দলগুলিও কতটা গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠল। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের ঘনিষ্ঠতা বাড়ল।

Advertisement

এবার আসা যাক পশ্চিমবঙ্গে। শিলিগুড়ির সাফল্যকে সামনে রেখেই আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্যে জোট গড়ে বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ে নামল বাম ও কংগ্রেস। ২০১১ সালেপশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪২টি আসন। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়েছিল। বামেরা পেয়েছিল ৪০টি আসন। ২০১৫ সালে শিলিগুড়ি মডেল সফল হতেই বাম-কংগ্রেস জোট হল।  ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বেড়ে গেল। ১৮৪ থেকে বেড়ে ২১১। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেস জোটের আসন কমে গেল। ভোট শতাংশের নিরিখে দেখতে গেলে ফারাকটা আরও বড়। ৪৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস মাত্র ১২.৩ শতাংশ ও বামফ্রন্ট ২৬ শতাংশ। তাত্‍পর্যপূর্ণ ভাবে বিজেপি ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জোট ১০.৭ শতাংশ ভোট পেল। কংগ্রেসের থেকে ২ শতাংশের কাছাকাছি কম। 

২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গেও আঁচ পড়ল মোদী হাওয়ার। কেন্দ্রীয় বিজেপি-র নজরে এল বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র উত্থান একেবারে ফিকে করে দিল বাম ও কংগ্রেসের জোটকে। ধীরে ধীরে বঙ্গ রাজনীতিতে মেরুকরণ তৈরি হয়ে গেল। যার নির্যাস, ২০১৬ সালে বিজেপি  ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জোট পেয়েছিল ৬টি আসন। সেই বিজেপি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেল। বাম ও কংগ্রেস জোট শূন্য। শুধুমাত্র ওই জোটের শরিক আইএসএফ ১টি আসন পেয়ে মুখ বাঁচাল।

এখন প্রশ্ন হল, বাম ও কংগ্রেস জোট গড়ে আদতে দুই দলেরই কিছু লাভ হল পশ্চিমবঙ্গে?

ধর্মনিরপেক্ষ জোট হিসেবে যে জোটকে বারবার প্রমোট করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতিতে ধোপে টিকছে না বাম ও কংগ্রেসের হাত মেলানো। ভোটের অঙ্ক ও সংখ্যা, সেটাই বলছে। ২০১৫ সালে যে শিলিগুড়ি মডেল আশার লো দেখিয়েছিল বামেদের, তা আসলে যে ক্ষণস্থায়ী একটি সাফল্য ছিল, তা মালুম হয়েছে, সময় যত গড়িয়েছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়তে তারা প্রস্তুত। কিন্তু কংগ্রেস কী করবে? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার bangla.aajtak.in-কে ফোনে বললেন, 'কংগ্রেস ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিতে তৈরি। যে দলই ধর্মের রাজনীতির বিরুদ্ধে, তাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা রয়েছে।' 

কিন্তু ভোট তো কমেই চলেছে। ভাগের রাজনীতি রুখতে পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে কি আদৌ উঠে আসতে পারবে একদা যুযুধান দুই দল? ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগেও একই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এখানে তাত্‍পর্যপূর্ণ বিষয় হল, দুই দলই পশ্চিমবঙ্গে একসময় ক্ষমতায় ছিল। তখনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সেই দুই দলকে ঘিরেই ভোট রাজনীতি হত। এখনও সেটাই হয়। শুধু ন্যারেটিভ বদলেছে! 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement