
নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াই এবার ভবানীপুরে। শুভেন্দু অধিকারীকে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে BJP আসন্ন নির্বাচনে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই কেন্দ্রটি বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি ভবানীপুরেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন না এবার আর 'মুখ্যমন্ত্রী হারিয়েছি', বুক ঠুকে বলতে পারবেন না।
BJP-র জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮ হাজার ২৯৭ ভোটে। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্যবধান ছিল ২৮ হাজারের বেশি। এমনকী, ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টিতে BJP এগিয়ে ছিল এবং কলকাতা পুরসভার ৮টির মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডেও তারা লিড পায়।
তবে ইতিহাস বলছে, ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালের পর থেকে এই কেন্দ্রে একাধিকবার জমিতেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (২০১১ ও ২০২১ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন)। উপনির্বাচনগুলিতে তাঁর ভোট শতাংশ ৭০%-রও বেশি ছিল।
যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখানে পিছিয়ে পড়েছিল, তবুও গত ১৫ বছরে মোট ৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই তৃণমূল জয়ী বা এগিয়ে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভাবে এই কেন্দ্র এখনও তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই ধরা হয়।
ভবানীপুরের জনসংখ্যাগত বৈচিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৪০% বাঙালি ভোটার, সমসংখ্যক গুজরাতি, মারওয়ারি, বিহারি ও অন্যান্য রয়েছে। মুসলিম ভোটারের পরিসংখ্যান এখানে ২০%। এই মিশ্র সামাজিক গঠন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়।
এক সময়ে এই কেন্দ্র কংগ্রেসের দখলে ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এখানে ২ বার জিতেছিলেন। তবে ২০০৮ সালের পুনর্বিন্যাসের পর ভবানীপুর নতুন ভাবে গঠিত হয় এবং তারপর থেকেই তৃণমূলের দখলে রয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে কি পরিবর্তন আসবে? BJP আশা করছে, অ-বাঙালি ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ তাদের দিকে আসবে, আর তৃণমূল চাইছে ২০২১ সালের মতো বড় জয়ের পুনরাবৃত্তি। মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইয়ের জেরে ছাব্বিশে এই ভবানীপুর নিঃসন্দেহে একটি হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র হয়ে উঠল এবং হাড্ডাহাড্ডি ফাইট দেখবে বাংলা। ওয়ার রুম গড়ে শুভেন্দু স্নায়ুচাপ বাড়াচ্ছেন, মমতা বললেন, 'অনেক বেশি ভোটে জিতব।'