
৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারদের ভাগ্য এখনও ঝুলে। SIR প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা ভোটার লিস্টে 'বিচারাধীন'। এই মামলাগুলি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই কি বাংলায় ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে? সেক্ষেত্রে এই বিচারাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী?
২ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের অন্তিম দিন, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে 'অ্যাডজুডিকেশন' তালিকাভুক্ত ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ধোঁয়াশা রেখে দিলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে এত সংখ্যক ভোটার কেন বিচারাধীন?
CEC জ্ঞানেশ কুমার বলেন, 'এনুমারেশন ফর্ম আসার পর দেখা গিয়েছে, ৪-৫% ভোটারদের ম্যাপিং ছিল না। ২০০২ ভোটার লিস্টে তাঁদের বা পরিবারের কারও নাম মেলেনি। পাশাপাশি ৭-৮% ভোটারের ম্যাপিং হলেও তা ভুল বা অবৈধ ছিল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, সব রাজ্যেই এভাবেই প্রক্রিয়া চলেছে। BLO-রা, AERO-রা, ERO-রা সেগুলি ভোটারদের সঙ্গে দেখা করে, হিয়ারিংয়ে ডেকে ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এই রাজ্যে অনেকগুলি বিচারাধীন মামলা রয়ে গিয়েছিল। সে কারণেই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয় এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন শুরু হয়।'
বিচারাধীন ভোটারদের কী ভবিষ্যৎ?
ঝুলে থাকা বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানালেন না নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, 'জুডিশিয়াল অফিসারদের নিযুক্ত করা হয়েছে। বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়গুলি তাঁরাই দেখছেন। এনুমারেশন ফর্ম সকলকেই দেওয়া হয়েছিল। ম্যাপড কিংবা পরিবারের নাম অথবা স্বাক্ষর না করা, সব ফর্মই ফেরত এসেছে। ৫৮ লক্ষ নাম ছিল হয় মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপলিকেট ভোটারের তালিকাভুক্ত। বিচারাধীন রয়েছে অনেকগুলি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই সেই নামগুলি জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরাই সেগুলি দেখছেন।'
ভোট ঘোষণা কবে?
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস গোটা SIR প্রক্রিয়া নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি কোনও বৈধ ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বের করা যাবে না। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। CPIM-এর দাবি, ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করা যাবে না।
তবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার দিল্লি ফিরে গিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।' কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে কমিশনার বলেন, 'একটা রাজ্যে কত দফায় ভোট হবেতা নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর।'
ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ভোট দেওয়া যাবে?
CEC জ্ঞানেশ কুমার আশ্বস্ত করে বলেন, 'যদি কারও নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে ফর্ম ৬ ফিলআপ করে আবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন।' তবে সেই প্রক্রিয়া আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।