Advertisement

West Bengal Vote: ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিরোধীদের কি আদৌ লাভ হয়?

তবে ভোটের আগেই রাজ্যে এত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরও একাধিক প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে। এই যেমন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তো এল, কিন্তু তার ফলে কি বিরোধীরা ভোটে অ্যাডভান্টেজ পাবে? কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভর করে কি পেরিয়ে যাওয়া যাবে ভোট বৈতরণী? নাকি এবারও বছরের পর বছরের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পরও এগিয়ে যাবে সেই তৃণমূল কংগ্রেস? আর এই সব বিষয় নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে bangla.aajtak.in।

ভোটের আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীভোটের আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী
সায়ন নস্কর
  • কলকাতা,
  • 24 Feb 2026,
  • अपडेटेड 11:49 AM IST
  • কেন্দ্রীয় বাহিনী তো এল, কিন্তু তার ফলে কি বিরোধীরা ভোটে অ্যাডভান্টেজ পাবে?
  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভর করে কি পেরিয়ে যাওয়া যাবে ভোট বৈতরণী?
  • নাকি এবারও বছরের পর বছরের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পরও এগিয়ে যাবে সেই তৃণমূল কংগ্রেস?

এখনও রাজ্যে চলছে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। প্রকাশিত হয়নি ফাইনাল ভোটার লিস্ট। হয়নি বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণাও। তবে তার আগেই রাজ্যে মোতায়েন হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্যে দুই দফায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলেছে। প্রথম দফায় ১ মার্চ আসবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

আর ভোটের এতদিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন হওয়ায় স্বভাবতই খুশি বিরোধী দলগুলি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাটতে পারে বলেই আশা করছেন তারা। 

তবে ভোটের আগেই রাজ্যে এত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরও একাধিক প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে। এই যেমন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তো এল, কিন্তু তার ফলে কি বিরোধীরা ভোটে অ্যাডভান্টেজ পাবে? কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভর করে কি পেরিয়ে যাওয়া যাবে ভোট বৈতরণী? নাকি এবারও বছরের পর বছরের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পরও এগিয়ে যাবে সেই তৃণমূল কংগ্রেস? আর এই সব বিষয় নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে bangla.aajtak.in। আসুন তাঁদের মতামত জেনে নেওয়া যাক। 

'সাধারণ মানুষের জন্য ভাল হয়', রাহুল সিনহা
কেন্দ্রীয় বাহিনীর রাজ্যে আসাকে সদর্থক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, 
'কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে সাধারণ মানুষের জন্য ভাল হয়। তৃণমূল ভোটের সময় গুন্ডামি করে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে শুধু বিজেপি নয়, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কমবে। সবাই খোলাখুলি ভোট দিতে যেতে পারবে।'

এরপর প্রশ্ন ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার পরও তো বিস্তর অভিযোগ ওঠে রিগিং, বুথে এজেন্ট না বসতে দেওয়ার, এমনকী বিজেপির ফলও তো খুব একটা ভালো হয় না, কী বলবেন? রাহুলের উত্তর, 'নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়টার দিকে নজর রাখা উচিত। পুলিশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় বাহিনী কিছু করতে পারবে না।'

পাশাপাশি তাঁর দাবি, এবার ভোটের পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। তৃণমূল বিদায় নিশ্চিত।

Advertisement

আমরা সচরাচর কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই না, দাবি সুজনের
এই বিষয়ে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'আমরা সচরাচর কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই না। আমরা ইলেকশন কমিশনের কাছে স্বচ্ছ এবং মুক্ত ভোটের দাবি রাখি। এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। যেখানে বাংলাদেশে ঠিক ঠাক ভোট হয়, আমাদের রাজ্যে সেটা করতে পারে না। দুষ্কৃতীরা ভোটের সময় দাপাদাপি করে।'

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসায় মানুষ একটু নিশ্চিন্ত হয় ঠিকই, তবে বাহিনীকে ঠিক ঠাক কাজ করতে দিতে হবে। নইলে কোনও লাভ নেই। 

কেন্দ্রীয় বাহিনী মানুষের মনে ভরসা যোগাতে পারে, মত সুমনের
কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী বলেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী মানুষের মনে ভরসা জোগাতে পারে। মানুষের অধিকার যাতে সুনিশ্চিত থাকে, হিংসা যাতে না হয়, সেটাই তাঁদের কাজ। কিন্তু তৃণমূল সরকার এই বিষয়ে বামেদের সব রেকর্ডও ভেঙে ফেলেছে। এখন ভোট লুঠের মাধ্যমে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তাই ভোট শান্তিপূর্ণ করতে হবে।'

ভোটে এর কী প্রভাব পড়তে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বক্তব্য, 'শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয় না, এই কথা ঠিক। তবে ঠিক ঠাক যদি ভোট হয়, তাহলে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে আসার সম্ভাবনা ০.০%।' অর্থাৎ তিনি আশাবাদী যে এই ভোটে বিরোধীরাই ক্ষমতা দখল করবে। 

বিরোধীরা এবারও হারবে, দাবি জয়প্রকাশের
যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও ভোট বাক্সে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাবে না বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, 'কিছু বিক্ষিপ্ত জায়গায় গুন্ডামি, অশান্তি হয়। তার জন্য এত এত কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন হয় না। এই বাহিনীর জন্য মানুষ ভয় পায়। তাঁরা বিরোধীদের ভোট দেয় না।'

পাশাপাশি তাঁর দাবি, ভোটে জিততে গেলে ৮৪০০০ বুথে ২ জন করে বুথ এজেন্ট দিতে হবে। সেই সঙ্গে বুথের বাইরে আরও ১২-১৩ জন লোক দরকার। বিরোধীদের এত লোকবলই নেই। তাই হিংসা হিংসা বলে চিৎকার করে বাহানা দেয়। এবার ভোটেও তাই তৃণমূল সরকার আসবে বলেই মনে করেন তিনি। 
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement