
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়ায় দিল্লিতে গিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাণক্যপুরীতে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও সীমা খান্নার নাম করে একযোগে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতা আসনগুলি থেকেই সবথেকে বেশি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে ৬ বার চিঠি লিখেও কোনও উত্তর না আসায় ফের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "আমার বিধানসভা ভবানীপুরে প্রায় ২ লক্ষ মতো ভোটার রয়েছে। লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি দেখিয়ে ৪০ হাজারের নাম বাদ দিয়েছে। ইআরওরা জানেই না। বিজেপির সীমা খান্না বসে রয়েছেন কমিশনে। বসে নাম বাদ দিচ্ছেন। গতকাল আমি বলেছি কমিশনকে, আপনারা হত্যাকারী। গণতন্ত্রে কে সরকার নির্বাচন করে, কমিশন করে নাকি?"
কে এই সীমা খান্না? জানা যায়, তিনি ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশানাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের উপ-মহাপরিচালক ও অপারেশনস ডিরেক্টর। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই সীমা খান্না বাংলায় এসেছিলেন বলেও শোনা যায়। তৃণমূল এর আগেও সীমা খান্নাকে নিশানা করেন।
মমতার আরও দাবি, "যত TMC কেন্দ্র আছে সবেতে কোথাও ৭০ হাজার, কোথাও ১ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপির ২ হাজার, ৩ হাজার, ১১ হাজার।"
এদিন মমতা সীমা খান্নার নাম করে আরও বলেন, "এআই ব্যবহার করে সত্যি যাচাই না করে নাম ডিলিট করে দেন। ইআরও-র সই ছাড়া এটা করা যায় না। ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ডিলিট করে দিয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাংলায় বাদ দিয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেয়নি। বিজেপি সীমা খান্নাকে বসিয়েছে। এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দিচ্ছে। ইআরও-র সই নেয়নি। এটা বেআইনী।"
শুধু তাই নয়, বেছে বেছে সংখ্যালঘু, মতুয়াদেরও SIR-এ হেনস্থা করা হয় বলে দাবি করেন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, "৩৩ শতাংশ মুসলিমকে কি রাজ্য থেকে বের করে দেব? কোথায় যাব আমরা?"
SIR নিয়ে তরজার মধ্যে দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। SIR প্রক্রিয়ায় মৃতদের পরিজনদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। SIR-এ হিয়ারিংয়ের নাম করে হেনস্থা করা হচ্ছে।