
প্রতীক উর রহমানের CPIM ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে এখন 'ট্রেন্ডিং টপিক'। তরুণ তুর্কীর দলবদলে বামেরা এখন 'প্রাসঙ্গিক'। প্রতীক উরের শত্রু শিবিরে যোগদান দলের অন্দরে প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই দাবি আলিমুদ্দিনের। তবে সৃজন, দীপ্সিতা, সায়নের মতো পরিচিত মুখেদের দলবদলের জল্পনা খানিকটা হলেও বিড়ম্বনা তৈরি করেছে, বলছেন খোদ পার্টির সমথর্করাই। বিতর্কের জেরে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা CPIM কি তবে রুজি-রুটির জন্য আওয়াজ তুলে ভোটবাক্স ভরাতে সক্ষম হবে? আসন সংখ্যা কি পজিটিভ হবে বিধানসভায়? এই নিয়ে হিসেব-নিকেশের মাঝেই প্রার্থী হিসেবে চর্চায় আসছে একঝাঁক নবীন নেতা-নেত্রীর নাম। কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ আসনে কাকে দাঁড় করাতে পারে বামেরা?
মার্চ থেকেই বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আদা জল খেয়ে মাঠে নেমে পড়ার কথা জানিয়েছেন CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ইতিমধ্যেই এলাকায় এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ কর্মসূচি করছেন মীনাক্ষীরা। এবার আলিমুদ্দিনের 'হাত'-এ নেই কংগ্রেস। যদিও সঙ্গ ছাড়েননি নওশাদ সিদ্দিকি। ISF-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত না হলেও জোট একপ্রকার নিশ্চিত। এছাড়াও CPI(ML) সহ ফ্রন্টের বাইরের একাধিক বাম সংগঠনও যুক্ত হচ্ছে এই জোটে। তবে ইতিমধ্যেই চর্চায় উঠে এসেছে CPIM-এর সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা। দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে প্রতীক উর ইস্যু ছাড়াও তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি আলিমুদ্দিন। তবে এবারও তালিকায় একঝাঁক তরুণ মুখ রাখছে CPIM।
২০১১ কিংবা ২০২১ সালের নির্বাচনের ফর্মুলা এবার আর রাজে লাগাবে না আলিমুদ্দিন। জোটের মধ্যে আসন বন্টনের ক্ষেত্রেও সেই হিসেব দেখা যেতে পারে। সূত্রের খবর, CPI ২০, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৬ থেকে ২৮, RSP ১৯টি আসনে লড়তে পারে। প্রাথমিক ভাবে ISF ৫০টি আসনের দাবি জানিয়েছিল। বিমান বসুর সঙ্গে বৈঠকের পর তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার। অন্যদিকে, লিবারেশনকে ৮টি থেকে ১০টি আসন দেওয়া হতে পারে। শতাধিক আসনে লড়বে CPIM।
ভাঙড়: আবারও লড়াই করতে পারেন ২০২১-এর একমাত্র জয়ী প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি।
যাদবপুর: সুজন চক্রবর্তী
বালি: দীপ্সিতা ধর
উত্তরপাড়া: মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
কসবা: সৃজন ভট্টাচার্য
দমদম উত্তর: শতরূপ ঘোষ
বালিগঞ্জ: কলতান দাশগুপ্ত
দমদম দক্ষিণ: ময়ূখ বিশ্বাস
এন্টালি: সায়রা শাহ হালিম
মানিকতলা: দেবাঞ্জন দে
কোচবিহার উত্তর: প্রণয় কার্জি
জলপাইগুড়ি: দেবরাজ বর্মন
সোনারপুর দক্ষিণ: সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়
টালিগঞ্জ: মোনালিসা সিনহা
বসিরহাট উত্তর: সপ্তর্ষি দেব
খরগ্রাম: ধ্রুবজ্যোতি সাহা
জামুরিয়া: ঐশী ঘোষ
বেহালা পশ্চিম: কৌস্তুভ চট্টোপাধ্যায়
নোয়াপাড়া: গার্গী চট্টোপাধ্যায়
কামারহাটি: সায়নদীপ মিত্র
খড়দা: দেবোজ্যোতি দাস
জয়নগর: অপূর্ব প্রামাণিক
বেলেঘাটা: সোহম মুখোপাধ্যায়
সিউড়ি: সৌভিক দাস বক্সি
ব্যারাকপুর: রুনু বন্দ্যোপাধ্যায়
বরানগর: দীপ্তজিৎ দাস
পাঁশকুড়া পূর্ব: ইব্রাহিম আলি
বিধাননগর: পলাশ দাস
বীজপুর: দেবাশিস রক্ষিত
অশোকনগর: আকাশ কর
কালিয়াগঞ্জ: ইন্দ্রজিৎ বর্মন
বাদুড়িয়া: সফিকুল সর্দার
হবিবপুর: প্রদ্যোৎ বর্মন
পানিহাটি: দেবজ্যোতি চক্রবর্তী
হরিশচন্দ্রপুর: তরিকুল আনোয়ার
সিঙ্গুরের এবং নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ আসন থেকে যথাক্রমে বাদশা মৈত্র এবং জাকির হোসেন মল্লিকের নাম উঠে আসছে। এছাড়াও প্রার্থীতালিকায় সম্ভাব্য মুখ হতে পারেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ পালোধী, দেবদূত ঘোষের মতো বামপন্থী তারকারাও। মহম্মদ সেলিম, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের মতো বর্ষীয়ানদেরও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও এই সম্ভাব্য তালিকা আদৌ চূড়ান্ত রূপ পাবে কি না, তা নিয়ে এখনও আলিমুদ্দিনের তরফে কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। ভোট যত এগিয়ে আসছে রাজ্য কমিটি, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা নানা ডেটা আপডেট করছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে কোন কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করা হয়, তা নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই ঝাড়াই-বাছাই করে তালিকা পাঠানো হবে দিল্লিতে একে গোপালন ভবনে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।