
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য। ওড়িশার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ ও ইসির কাছে অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস।
যতদূর খবর, ওড়িশার স্থানীয় নেতা মদন মোহন জেনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এই নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে যৌন হেনস্থামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বিজেপির সদস্য। সেই মতো থানাতেও ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
মদন মোহন জেনার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপল অ্যাক্টের একাধিক ধারাতেও করা হয়েছে অভিযোগ।
তৃণমূল জানিয়েছে, মদন মোহন জেনা এমন ভিডিও প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর ও যৌন হেনস্থা মূলক মন্তব্য করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে, এই মন্তব্যগুলি শুধু অশ্লীল ও অপমানজনক নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের নারীদের সম্মান ও মর্যাদার উপর গুরুতর আঘাত করে। এই বিজেপি নেতার যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে সব শ্রেণির নারীদের অপমান হয়েছে। এর ফলে নারীবিদ্বেষী মনোভাবকে উৎসাহিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নারীদের প্রতি অসম্মান দেখান হয়েছে। এমনকী তৈরি করা হয়েছে শত্রুতার পরিবেশ।
তৃণমূল আরও জানিয়েছে, মদন মোহন জেনা বারবার এই ধরনের আক্রমণাত্মক কনটেন্ট তৈরি করছেন। তিনি সেগুলি প্রকাশ করছেন এবং প্রচার করে চলেছেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয়ে যে তিনি আইনের প্রতি কোনও ভরসা রাখেন না। এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি ক্রমাগত বেআইনি কাজ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই আচরণ নারীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক। তিনি নারীবিদ্বেষী আচরণকে স্বাভাবিক করে তুলছেন। এর ফলে ভবিষ্যৎ খারাপ হবে।
এখানেই শেষ না করে তৃণমূলের আরও দাবি, এই ভিডিওগুলির মাধ্যমে মদন মোহন জেনা বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়গুলিকেও আক্রমণ করেছেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়েছেন। ভিডিওর বিষয়বস্তুতে ধর্মীয়ভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য রয়েছে, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়কে প্ররোচিত করতে পারে। এগুলি মেনে নেওয়া যায় না।
পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ যে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত পরিবেশে এমন মন্তব্য রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। তাঁর প্রকাশিত কিছু আক্রমণাত্মক ভিডিওর লিঙ্ক-সহ একটি তালিকাও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি দ্রুত এই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে তৃণমূল। এখন দেখার কমিশন এবং পুলিশ ঠিক কী ব্যবস্থা নেয়।