
পশ্চিমবঙ্গে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। আর SIR নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে সিপিআইএম, কংগ্রেস সকলেই একযোগে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে আক্রমণ করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলেই দাবি করছে তারা।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে ভোটার তালিকায় প্রচুর ভুয়ো ও মৃত ভোটার রয়েছে। আর তাদের বাদ দিতেই চলছে SIR প্রক্রিয়া। তাতে আদতে ভোটার লিস্ট শুদ্ধ হবে।
আর কমিশনের এই দাবির সঙ্গে প্রথম থেকেই সহমত প্রকাশ করেছে বিজেপি। বরং তারা আরও এককদম এগিয়ে গিয়ে অনুপ্রবেশকে SIR-এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। বঙ্গ বিজেপির সুকান্ত মজুমদার থেকে শুভেন্দু অধিকারী বা শমীক ভট্টাচার্য, সকলেই দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন যে SIR হলে আদতে বিজেপি এগিয়ে যাবে। বাদ যাবে ভুয়ো ভোটার এবং বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের নাম। আর তাতেই এগিয়ে যাবে বিজেপি। ছাব্বিশের ভোটে নবান্ন দখল করা সহজ হবে।
যদিও বর্তমানে বিজেপির এই তথ্য মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিজেপি ভোটে জেতার, আসন বাড়ার কথা বলছে ঠিকই, তবে সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলন কঠিন। বরং SIR-এর কারণে বিজেপির সিট কমতে পারে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
কেন এমনটা মনে করা হচ্ছে?
এই বিশেষজ্ঞদের মতে, SIR শুরুর সময় বিজেপি যেভাবে গোটা প্রক্রিয়াটা এগবে ভেবেছিল, তেমনটা হয়নি। বরং বিষয়টা তালগোল পাকাতে করেছে।
আসলে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বা তথ্যগত অসঙ্গতির নাম করে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ডাকতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই ডাক পেয়েই বাড়ছে ক্ষোভ।
ভোটারদের একাংশের দাবি, অহেতুক তাঁদের হেনস্থা করছে কমিশন। এমনকী ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নিজের বা পরিবারের নাম থাকার পরও কমিশন ডাকছে। আর তাতেই চটছেন অনেকে।
এছাড়া শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে নথি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ডকুমেন্ট দিয়েও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মতুয়া ভোট নিয়ে প্রশ্ন
বাংলদেশের শরণার্থী মতুয়া প্রধান এলাকায় সাধারণত বিজেপির পতাকা ওড়ে। তবে SIR করার জন্য সেখানেও বহু ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরাও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এখানে মাথায় রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় বড় সংখ্যক মতুয়া ভোট রয়েছে। আর এই সব জেলায় SIR-এর পর বিজেপির খারাপ অবস্থা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃণমূল মানুষকে বোঝাতে পেরেছে...
আসলে SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিরোধিতায় ছিল তৃণমূল। তাঁরা বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে। পাশাপাশি SIR নিয়ে করেছে সুপ্রিম কোর্টে মামলা। সেই মামলার রায়ও তাদের পক্ষে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে যে বিএলএ-রা শুনানি কেন্দ্রে ভোটারের হয়ে উপস্থিত থাকতে পারবে। পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও মান্যতা দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল এই গোটা প্রক্রিয়ায় সমস্ত রকমভাবে ভোটারদের করছে সাহায্য। তাঁদের নথিগত সমস্যা থাকলে সেটা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে ঘাসফুলের প্রতিচ্ছবি আরও মানবিক হয়ে উঠছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের এই অংশের কাছে।
বিজেপি কী বলছে?
এই সব সমালোচনায় কান দিতে নারাজ বঙ্গ বিজেপি। তারা নির্বাচন কমিশনকে ঠিক ঠাক করে SIR করতে বলছে। পাশাপাশি মতুয়াদেরও CAA-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়ে ভোটার হয়ে উঠতেও তাঁরা সাহায্য করবে বলে ঘোষণা করেছে।
কী হতে পারে?
একদল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, বিজেপির দাবি সত্যি হতে পারে। ভাল সংখ্যক ভুয়ো ভোটার বাদ গেলে আদতে বিজেপির লাভ। তবে অন্য দল মনে করছে যে খেলাটা এতটা সহজ নাও হতে পারে। ভোটারদের পাশে থেকে মন জয় করতে পারে তৃণমূল। তাঁরা ভোটার অসন্তোষ কাজে লাগাতে পারে। যার ফলে বাড়তে পারে তাঁদের ভোট।
তবে এই সব কিছুই দাবি এবং পাল্টা দাবিতে আটকে রয়েছে। আসল ফলাফল মিলবে বিধানসভার রেজাল্টের দিনই।