Advertisement

SIR এ ৫ বছর পরে গরমিল পেলেও ব্যবস্থা, ৬ জেলাশাসকের কাজে না-খুশ কমিশন

কমিশন সূত্রের খবর, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের গাফিলতির জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসককে রাজনৈতিক বয়ান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। নথি আপলোড করতে দেরি করার জন্য কোচবিহারের জেলাশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। কমিশনের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিইও-কেও।

SIR নিয়ে কড়া কমিশনSIR নিয়ে কড়া কমিশন
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 14 Feb 2026,
  • अपडेटेड 1:11 AM IST
  • শুক্রবার কমিশনের ভার্চুয়াল বৈঠক।
  • ৬ জেলার জেলাশাসককে সতর্ক করা হল।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে কড়া মনোভাব কমিশনের। ত্রুটিপূর্ণ নথি আপলোড করার জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত এসআইআর সংক্রান্ত রেকর্ড রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রের খবর, এই নির্দেশের নেপথ্যের কারণ, তালিকায় কোনও ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে যাতে পদক্ষেপ করা যায়। সতর্ক করা হয়েছে একাধিক জেলার জেলাশাসকদেরও। এ দিনই বাংলার জন্য অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এনকে মিশ্রকে স্পেশাল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করল কমিশন।

কমিশন সূত্রের খবর, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের গাফিলতির জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসককে রাজনৈতিক বয়ান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। নথি আপলোড করতে দেরি করার জন্য কোচবিহারের জেলাশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। কমিশনের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিইও-কেও।

শুক্রবার নির্বাচন কমিশন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের  দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই বেশ কয়েকটি জেলার জেলাশাসকদের কাজকর্ম নিয়ে আপত্তি তোলে কমিশন। সতর্ক করা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় গরমিল ধরা পড়লেই নেওয়া হবে আইনি। 

কমিশন জানিয়েছে, সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পাতা, অস্পষ্ট ছবি আপলোড করার মতো একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সমস্ত জেলা শাসক এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তা দেখানো হয়। কমিশনের প্রশ্ন, এই ধরণের নথি কীভাবে আপলোড করা হল? এগুলি কে আপলোড করেছে? এবং জেলাশাসকরা কেন সেগুলি যাচাই করলেন না? কমিশনের আরও প্রশ্ন, এখন কেন নথি আপলোড করা হচ্ছে? এটা কি জাল নথিকে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য?

কমিশনের সাফ কথা, জেলাশাসকদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ইআরও/এইআরও-রা শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত ডিইও-কে ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করতে হবে যে আপলোড করা সমস্ত নথি অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী আছে। তথ্যপ্রযুক্তি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই সময়সীমার পরেও সিস্টেমে এই ধরনের কোনও নথি আপলোড হচ্ছে কিনা, তা দেখতে হবে। সময়সীমার পরও এমন গরমিল নথির হদিশ মিললে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক দায়ী থাকবেন।

Advertisement

কমিশনের বার্তা, ডিইও এবং ইআরও-দের বোঝা উচিত, সিস্টেমে বছরের পর বছর সংরক্ষিত থাকবে সমস্ত নথি। এমনকি ১ বছর, ২ বছর বা ৫ বছর পরেও তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিকের সন্ধান মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিচারের আওতায় আনা হবে। দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে।

কাজে গাফিলতির জন্য কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের সমালোচনা করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসককে 'রাজনৈতিক বক্তব্য' না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নথি আপলোডে বিলম্বের জন্য ধমক দেওয়া হয়েছে  কোচবিহারের জেলাশাসককে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন অধিকারে মাইক্রো অবজার্ভারদের ডাকছেন ইআরও এবং এআরও-রা।

সমস্ত পর্যবেক্ষকদের বলা হয়েছে, ইআরও/ডিইও-দের নিয়ম লঙ্ঘন ঘটনা ঘটলে তা কমিশনের নজরে আনতে হবে। যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সিইও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে জেলাশাসকরা অযোগ্য বা অপাঠ্য নথিকে অনুমোদন দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ করার জন্য সেই সমস্ত মামলাগুলি যেন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়।

Read more!
Advertisement
Advertisement