
সংখ্যালঘু উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে বিধানসভায় তুমুল বাক বিতণ্ডায় জড়ালেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এবং তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। এ দিন বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতায় সংখ্যালঘুদের নিয়ে করা অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের পরই শুরু হয়ে যায় তরজা।
আজ অগ্নিমিত্রা বিধানসভায় বলেন, 'সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা বাজেট বরাদ্দ ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বরাদ্দ বৃদ্ধি শিক্ষার জন্য নাকি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে?'
পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, 'এই সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে। মাদ্রাসায় পড়ে কেউ কেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না? কেন কেউ কেউ এখানে ক্রিমিনাল হওয়ার দিকে এগচ্ছে?' আর অগ্নিমিত্রার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিধানসভায় হই হট্টোগোল শুরু হয়ে যায়। মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে ওঠেন ফিরহাদ।
কী বলেন ফিরহাদ?
এই সময় ফিরহাদ বলেন, 'স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু নিজের প্রাণ দিয়েছেন। আমরা কোনওভাবেই ক্রিমিনাল নই।' এরপরই অগ্নিমিত্রাকে তিনি প্রশ্ন করেন, 'এপিজে আব্দুল কালাম কি ক্রিমিনাল? কাজী নজরুল ইলসাম কি ক্রিমিনাল? আপনাদের ধিক্কার জানাই। আপনাকে ক্ষমতা চাইতে হবে।'
তুমুল হই হট্টোগোল শুরু হয়ে যায়...
অগ্নিমিত্রা এবং ফিরবাদের বাক্য বিতণ্ডার মধ্যেই হইচই শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও অগ্নিমিত্রার উদ্দেশে বলেন, 'এমন কোনও শব্দ বলবেন না যাতে কোনও মানুষ মনে আঘাত পান।'
আর অধ্যক্ষের এই জবাবেরও পাল্টা দেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, 'স্বাধীনতা আন্দোলনে অবশ্যই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে। এটা নিয়ে নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে শুধু ক্রিমিনাল তৈরি হচ্ছে। এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।' পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন হল, এই রাজ্যে এত হিংসার ঘটনা ঘটছে, সেগুলি কেন শুধুই শুক্রবার হচ্ছে?
এই প্রশ্নের পর আবার শুরু হয়ে যায় হই হট্টগোল। তৃণমূল বিধায়করা একসঙ্গে প্রতিবাদ দেখাতে থাকেন। এই সময় পাল্টা স্লোগান দেয় বিজেপি বিধায়করা।
ওদিকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, 'এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না যাতে কোনও একটি সম্প্রদায়ের আঘাত লাগে।'
এখানেই শেষ না করে তিনি অগ্নিমিত্রার সংখ্যালঘুদের ক্রিমিনাল বলা অংশটি রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেন।
যদিও বিধানসভা থেকে বেরনোর পরও নিজের অবস্থানে অটুট থাকেন অগ্নিমিত্রা। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল ছিল না। ফলে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই।