Advertisement

Singur Issue Politics: ছাব্বিশেও সেই সিঙ্গুর, সেই TATA মোটরস, BJP-র প্ল্যানটা কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সিঙ্গুর আন্দোলন যেন সমাথর্ক। বহু ফসলি জমিতে টাটার কারখানা হবে না এবং অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে, এটাই ছিল তাঁর দাবি। আর সেই দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছিল বাংলার একটা বড় অংশের মানুষ। পথে নেমেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। যার ফলে বহু টালবাহানার পর রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে গুজরাতে চলে যায় টাটা।

ফের সংঘাতে সিঙ্গুরফের সংঘাতে সিঙ্গুর
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 15 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:22 PM IST
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সিঙ্গুর আন্দোলন যেন সমাথর্ক
  • বহু ফসলি জমিতে টাটার কারখানা হবে না এবং অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে, এটাই ছিল তাঁর দাবি
  • সেই দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছিল বাংলার একটা বড় অংশের মানুষ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সিঙ্গুর আন্দোলন যেন সমাথর্ক। বহু ফসলি জমিতে টাটার কারখানা হবে না এবং অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে, এটাই ছিল তাঁর দাবি। আর সেই দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছিল বাংলার একটা বড় অংশের মানুষ। পথে নেমেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। যার ফলে বহু টালবাহানার পর রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে গুজরাতে চলে যায় টাটা। 

আর বামফ্রন্ট বিরোধিতার সেই হাওয়ায় ভর করেই ২০০৯ সালের লোকসভা ভোট এবং ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে জিতে কার্যত বাংলা দখল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। 

আর আজ সেই ঘটনার এত বছর পর ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সেই সিঙ্গুরকেই পাখির চোখ করেছে বিজেপি। সেখান থেকেই গোটা বাংলায় গেরুয়া পতাকা ওড়ানোর চেষ্টা চলছে। 

মোদীর ব়্যালি 
এই সেই সিঙ্গুর, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ মমতার হাত ধরে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পেয়েছিলেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সিঙ্গুরের যে খুব একটা উন্নতি হয়েছে, এমন নয়। আর সেই জায়গাটাই কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। সেই মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৮ জানুয়ারি উপস্থিত হতে চলেছেন সিঙ্গুরের মাটিতে। আর তার আগেই বাংলা বিজেপির পক্ষ থেকে আওয়াজ তোলা হয়েছে যে টাটাকে সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনা হবে।

মাথায় রাখতে হবে ২০০৮ সালে বাংলা ছেড়ে যায় টাটা। গুজরাতে স্থানান্তরিত হয় ন্যানো কারখানা। তারপর থেকেই ১০০০ একর জমি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে সিঙ্গুরে। এই জমির মধ্যে মাত্র ৩০০ একরেই চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে মাঠে নেমেছে বিজেপি। তাদের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের ভোটে জিতলে সিঙ্গুরে টাটাকে ফেরানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। 

কী হয়েছিল? 
সালটা ছিল ২০০৬। সেই বছরের মে মাসে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও টাটা গ্রুপের মধ্যে একটা চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে ঠিক হয় হুগলির একাধিক মৌজার ১০০০ একর জমির উপর হবে ন্যানো কারখানা। সেই মতো শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ। আর এমন পরিস্থিতিতেই কৃষকদের থেকে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মাঠে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এমনকী ২০০৮ সালে ২১ দিনের অনশন করেন। 

Advertisement

এসবের মাঝেই সমস্যা সমাধানের হাজার চেষ্টা হয়। বুদ্ধদেব এবং মমতা বৈঠকও করেন। তবে সেটা সম্ভব হয়নি। যার ফলে ২০০৮ সালে রাজ্য ছেড়ে চলে যায় টাটা। তারা গুজরাতের সানন্দে গিয়ে গাড়ি কারখানা তৈরি করে। 

আর কাকতালীয় হলেও সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সাদরে রতন টাটাকে গুজরাতে নিয়ে যান।

তিনি সেই সময় বলেন, 'রতন টাটা বাংলা ছাড়ার পরই আমি তাঁকে ছোট্ট মেসেজে ওয়েলকাম লিখি। তারপর আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ১ টাকার SMS-এর কত ক্ষমতা।'

বিজেপি কী চাইছে? 
ক্ষমতায় আসার পর সিঙ্গুর চলে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির আলোচনার অন্তরালে। তবে সেই খালি জায়গাতেই আবার ময়দানে নেমেছে বিজেপি। তাদের পক্ষ থেকে সিঙ্গুরে টাটাকে ফেরনোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। 

এই প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'বাংলা থেকে জোর করে বিজেপিকে বের করে দেওয়া হয়। মোদী এখানে আসছেন, আর ভবিষ্যতে টাটাও ফিরবে। তবে তেমনটা হওয়ার জন্য সরকারের বদল প্রয়োজন।'

অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের জায়গা থেকেই তাঁকে ঘায়েল করতে চাইছে বিজেপি। সিঙ্গুরের মাটি থেকেই মোদীকে দিয়ে গেরুয়া শিবির সেই বার্তাই দিতে চাইছে।


 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement