
বৃহস্পতিবার হাই কমান্ডের সঙ্গে বৈঠক ছিল প্রদেশ কংগ্রেসের। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়ে যায় যে বামেদের বা তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাবে না কংগ্রেস। তার বদলে ছাব্বিশে একাই হবে লড়াই। তবে শুধু জোট নয়, এই বৈঠক থেকে আসন্ন ভোটের লক্ষ্যমাত্রাও ঠিক হয়ে যায় বলে খবর।
কী লক্ষ্য কংগ্রেসের?
ইতিমধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেস এবং হাই কমান্ডের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের অন্দরের খবর সামনে এসেছে। সেখানে জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধীর সামনেই ঠিক হয়ে যায় কংগ্রেসের নতুন লক্ষ্যমাত্রা।
রাজ্য নেতারা জানিয়েছেন যে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৫ শতাংশ ভোট রয়েছে কংগ্রেসের। আর সেটাই বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার জন্য ঝাঁপাতে হবে।
কতগুলি সিটে ভাল ফলের আশা?
যতদূর খবর, এই বৈঠকে কংগ্রেসের সিট সংখ্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে মোটামুটি ৬৫টি সিটে ভাল ফল করার মতো জায়গায় রয়েছে কংগ্রেস। আর কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি সিট জিততে পারে তারা। তবে খুব ভল ফল হলে ২৫ থেকে ৩০টি আসনেও কংগ্রেস জয়ী হতে পারে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অর্থাৎ মোটের উপর এই হল কংগ্রেসের লক্ষ্যমাত্রা। এই টার্গেটকে সামনে রেখেই এগবে তারা।
আর কী কথা হয় বৈঠকে?
এই বৈঠকে বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে বিশদে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়ে দেয় যে, বামেদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেসের কোনও লাভ হচ্ছে না। বামেদের কোনও ভোটই ট্রান্সফার হচ্ছে না কংগ্রেসের দিকে। আর সেই কথা শোনার পরই হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে জোটে না বলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
সেই মতো প্রদেশ কংগ্রেস নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে। এখন দেখার বামেদের পক্ষ থেকে এর পাল্টা কী বলা হয়।
তৃণমূলের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গও ওঠে
দেশের রাজনীতিতে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ হল বিজেপি। তাই আসন্ন বিধানসভা ভোটেও তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়ার কথা প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ ভেবেছিল বলে খবর। আর এই প্রসঙ্গটা হাই কমান্ডের সঙ্গে বৈঠকেও ওঠে।
সেখানে রাহুল গান্ধী জানতে চান যে তৃণমূল কংগ্রসের পক্ষ থেকে কোনও ভোটা বার্তা দেওয়া হয়েছে কি না। এর উত্তরে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং ইনচার্জ গুলাম আহমেদ মীর জানিয়ে দেন এমন কোনও মেসেজ আসেনি। আর এই কথা শোনার পরই রাহুল গান্ধী একলা চলার নীতি ঘোষণা করে দেন। কারও জন্য অপেক্ষা না করার দেন বার্তা।
এখন দেখার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে একা হেঁটে কতটা সফল হতে পারে কংগ্রেস, নাকি তাদের ভোট আরও কমতির দিকে যায়। তবে এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হবে।