
নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করার পর থেকেই বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। সেই মতো একধিক দলের সঙ্গে জোটের সমীকরণ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। আর সেই কাজেই এবার আসাউদ্দিন ওয়াইসির AIMIM বা মিমের সঙ্গেও জোট নিয়ে বৈঠক করলেন হুমায়ুন।
শুক্রবার মিমের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কির সঙ্গে কথা বলেন হুমায়ুন। আর সেই বৈঠকের পরই জোট জল্পনা বাড়ে। তবে এখনও দুই পক্ষের কেউই জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে মুখ খোলেনি।
ছবি পোস্ট করেছে মিম
এই বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়েছে মিমের পক্ষ থেকে। তার ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, 'মুসলিম, দলিত এবং বঞ্চিতদের হয়ে AIMIM সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।' যদিও সেই বার্তাতেও জোটের কথা ঘোষণা করা হয়নি। তবে যতদূর খবর, ডিসেম্বর থেকেই জোট নিয়ে কথা বলছে দুই দল।
সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেন
ও দিকে আবার সম্প্রতি সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন। তাঁরা রাতের বেলায় রাজারহাটের একটি হোটেলে বৈঠক করেন বলে খবর। আর সেই বৈঠকই এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।
এই বৈঠক সেরে বেরিয়েই হুমায়ুন জানান, ১৫ তারিখের মধ্যেই আসন সমঝোতা বা জোট নিয়ে বার্তা দিতে অনুরোধ করেছেন সেলিমকে। নইলে বড় দেরি হয়ে যাবে।
যদিও জোট নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেননি মহম্মদ সেলিম। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জানান, হুমায়ুনের লক্ষ্য কী, আগামী ভোটে কী করতে চায়, এই সব জানতেই বৈঠক করা হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সিপিআইএম-এ কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জোট হয় না। পার্টির সঙ্গে আলোচনা করার পরই এই নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
যদিও এই বৈঠকের পর ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সিপিআইএম-কে। হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ফলে দলের ধর্ম নিরপেক্ষ মুখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মত একাংশের। তবে এই বিষয়টাকে আপাতভাবে পাত্তা দিতে নারাজ রাজ্য সিপিএম-এর তাবড় নেতৃত্ব।
হুমায়ুন কী করবে?
পশ্চিবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে নিজের ঘর গোছাতে ব্যস্ত হুমায়ুন। আপাতভাবে তৃণমূলকে চাপে ফেলাই তাঁর লক্ষ্য। তাই তিনি রোজই নতুন নতুন অঙ্ক কষছেন। সেই মতো দিচ্ছেন চাল। এখন দেখার তিনি কোন দলের সঙ্গে জোটে যান। আর সেই জোট করে রাজ্য রাজনীতিতে কোনও দাগ কাটতে পারেন কি না, তৃণমূলকে কোনও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কি না।