
কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠ করা নিয়ে তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন মহম্মদ সেলিম। ভোটের আগে হুমায়ুনের জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোটের জল্পনা নিয়েও বামেদের কটাক্ষ করছেন তৃণমূল-BJP। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বামেদের সঙ্গে ছেড়ে একলা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসবের মধ্যেই CPIM-এর রাজ্য সম্পাককে নিয়ে বোমা ফাটালেন হুমায়ুন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোমবার হুমায়ুন কবীর বললেন, 'বামফ্রন্টের যে সব নেতৃবৃন্দ বা পলিটব্যুরো সদস্যরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা হয়ত এটা জানেন না, একটি নয়, একাধিক পাঁচতারা হোটেলে একাধিকবার আমার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মহম্মদ সেলিম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। এমনকী তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হওয়ার পরও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। তিনি এখনও বলছেন, আশ্বাস দিয়েছেন, তৃণমূলকে হারানোর জন্য তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তবে থাকলেও ভাল, না থাকলেও হুমায়ুন কবীরের কিছু যায় আসবে না। নিজের শক্তিতে ১৮২টি আসনে জনতা উন্নয়ন পার্টি একক ভাবে লড়বে।' জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এ বারের নির্বাচনে ত্রিশঙ্কু ফলাফল হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার জন্য অনেকেই অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ১৪টি আসনে সমঝোতার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে হুমায়ুন কবীরকে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'একটা সময়ে অনেক অপমান, অসম্মান করা হয়েছিল। যাঁরা এদের দালালি করে, তাঁরা অনেকেই বলছেন, যা হয়েছে হয়ে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদে একটা আসনে সমঝোতা হোক। কিন্তু এই দলটার জন্মই হয়েছিল শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, তোলাবাজি ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে। সরকারি টাকায় মন্দির হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিচ্ছে তা-ও DA নেই, শুধু ভাতার সরকার। তাঁরা এখন বড় বড় কথা বলছে। জবাব দেবে বাংলার মানুষ। তারপর দেখা যাবে কে কার সঙ্গে থাকবে, কে কার কাছে যাবে।'