
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে কমিশন থেকে বেরিয়ে ফের কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় কাজ করছে কমিশন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দিল্লিতে অনেকদিন রাজনীতি করেছি। মন্ত্রী ছিলাম, সাংসদ ছিলাম। কিন্তু কখনও এই রকম নির্বাচন কমিশনার দেখেনি। তিনি মিথ্যেবাদী। কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? ৫৮ লক্ষ মানুষকে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, আপনার যদি এসআইআর করতেই হত, তাহলে ২০০২ সালের পর এতদিন কেন করলেন না? কেন তিনমাসে করলেন? যদি করতেই হত, যে রাজ্যগুলিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলি ছাড়া অন্য রাজ্যে করতেন। পরে ভোট হয়ে গেলে এসআইআর করতেন। এই এসআইআর পুরো অগণতান্ত্রিক, অসংসদীয়। আজকে যদি অটলজি বেঁচে থাকতেন, উনি কি জন্ম শংসাপত্র দিতে পারতেন? বিয়ের পর পদবি বদল হলেও নাম বাদ দিচ্ছে। জীবিতদের মৃত বলে ঘোষণা করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ সরকার নির্বাচিত করবে নাকি ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন সরকার ঠিক করবে?
বয়কট করে চলে এসেছি: মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের অপমান করেছেন। CEC আমাদের কথা শোনেনি, আমরা বয়কট করে চলে এসেছি। নির্বাচন কমিশন মিথ্যেবাদী। এমন ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি। এমন আচরণ করছেন যেন উনি জমিদার, আর আমরা চাকর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছে না কমিশন। বিজেপির দালাল। অনেক নির্বাচন কমিশন দেখেছি। কিন্তু, কমিশনকে এরকম তোতাপাখি কেউ বানায়নি। সাধারণ মানুষ সরকার নির্বাচিত করবে নাকি ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন সরকার ঠিক করবে?
প্রসঙ্গত , সোমবার বিকেল ৪টের সময় দিল্লিতে কমিশনের দফতরে যাবেন, সেই কারণে রবিবারই দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো এদিন বিকেল ৪টের পর নির্বাচন সদনে পৌঁছন মমতা। সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের পরনেই ছিল কালো পোশাক।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই দিল্লি গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে রয়েছেন SIR ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ। তাঁদের নিয়েই এদিন কমিশনের দফতরে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালো চাদর জড়িয়ে ছিলেন। অন্যদের পরনে ছিল কালো পোশাক।
মমতার সঙ্গে ছিলেন ‘এসআইআরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত’দের কয়েক জন। সকলের পরনেই কালো পোশাক। কারও পরনে কালো চাদর, কেউ আবার পরেছেন কালো সোয়েটার। মমতার সঙ্গী হন SIR-এ ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবার। মৃত ৩ বিএলও-র পরিবারও ছিল মমতার সঙ্গে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে আচমকাই চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবন ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, বঙ্গভবনের ঘরে ঘরে তল্লাশিও চালানো হয়। জানতে পেরেই কার্যত ‘এক কাপড়ে’ বাসভবন থেকে বেরিয়ে বঙ্গভবনের সামনে হাজির হন মমতা। দিল্লি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তিনি। গোটা ঘটনার নেপথ্যে অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণংদেহী মেজাজে অবশেষে বঙ্গভবন ছাড়ল দিল্লি পুলিশ। এদিন বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও।