
ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে বড় খবর। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বকেয়া ডিএ পাবেন ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে। ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই নিয়ে আজ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। সেখানেই তিনি জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ROPA ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পেতে শুরু করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। রাজ্য সরকারের সমস্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা, অন্যান্য স্থানীয় সংস্থা এবং অনুদানপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এর আওতায় আসবেন। ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী, তাঁরা তাঁরা ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ROPA ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পেতে শুরু করবেন।'
বিকেল ৪টেয় দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করা হবে। তার ঠিক আগে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ইমাম ও পুরোহিতদের ৫০০ টাকা করে ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন থেকে ২০০০ টাকা করে পাবেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, এর আগেই ডিএ মামলায় জয় পায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটাতে হবে রাজ্যকে। বাকি বকেয়া কবে-কীভাবে দেওয়া হবে তা প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে আদালতই একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। অথচ রাজ্য সরকার ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে ফের আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে। তার মধ্যেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বিষয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'কী হাস্যকর ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার মাত্র কয়েক মিনিট আগে হঠাৎ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কথা মনে পড়ল? ROPA ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ নাকি ‘মার্চ ২০২৬ থেকে’ দেওয়া হবে? বছরের পর বছর রাজ্যের কোষাগার লুট করে এবং কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করার পর এটাই কি আপনার শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী কৌশল? একটি পয়সাও বাস্তবে দেওয়া হবে না। কোনও জবাবদিহি নেই, টাকা নেই, কাজের বাস্তবায়ন নেই—মানুষকে শেষবারের মতো বোকা বানাতে অর্থ দফতরের খালি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের চিরাচরিত নির্বাচনী নাটক। পশ্চিমবঙ্গ সব দেখছে। এবার কিন্তু রসিকতার লক্ষ্য আপনি নিজেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষে ভাস্কর ঘোষ বলেন, 'এই জয় সরকারি কর্মীদের জয়। এই মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মীদের দিনের পর দিন বঞ্চিত করে এসেছেন। অথচ আজ ভোট ঘোষণার আগে বকেয়া মেটানোর কথা ঘোষণা করলেন। আসলে গত পরশু দিন ধর্মঘট হয়েছে রাজ্যজুড়ে। তা সফল হয়েছিল। তা দেখেই মুখ্যমন্ত্রী চাপে পড়ে এই ঘোষণা করেছেন। আমাদের মনে হয়, লড়াই লড়াইয়ের মতো করা গেলে তা সফল হবেই।'
এই ডিএ মামলার আন্দোলনকারী সংস্থা সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, 'রাজ্য সরকার ROPA ২০০৯-এর বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি রাজ্য সরকার কল্পতরু হওয়ার বাসনা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। গত ১৩ ই মার্চ সর্বাত্মক ধর্মঘটের জেরে এবং সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসলে রাজ্য সরকারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পেনশনভোগীরা দীর্ঘদিনের ডিএ বঞ্চণা, যার জেরে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে , রাজ্য সরকারের প্রতি যে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন তাতে আতঙ্কে ভুগছে রাজ্য সরকার। ফলে প্রলেপ দিতে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু চরম ভুক্তভোগী হিসেবে আমরা মনে করি, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। যতক্ষণ না বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে।'