
শুক্রবার জুম্মার নমাজের দিন মুর্শিদাবাদে অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এদিন মুর্শিদাবাদে গিয়ে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পরপর দুটি জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখান থেকেই সংখ্যালঘু সমাজকে শান্ত থাকার বার্তা দেন মমতা।
সুতির ছাবিঘাটি কে.ডি স্কুলের ময়দান থেকে মমতা বলেন,"আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু কেউ দাঙ্গায় যাবে না। শান্তিপূর্ণ ভাবে, রাজনৈতিক ময়দানে আন্দোলন করুন। কেউ বিচারকদের ঘেরাও করে আন্দোলন করবেন না। কাল জুম্মাবার বিজেপি, কংগ্রেস আর হায়দারাবাদ থেকে উড়ে আসারা প্ল্যান করে আপনাদের উসকে দিতে পারে। আপনারা সেই ফাঁদে পা দিয়ে ছুটে গেলেই NIA, CBI আপনাদের গ্রেফতার করতে পারে। আপনাদের দু'দিকই যাবে।"
ইমামদের উদ্দেশে মমতা বলেন, "আপনারও সকলের সঙ্গে কথা বলুন। যাতে কেউ কোনও উস্কানিমূলক কথা না বলে। যাতে কোনও অশান্তি না হয়।" এরপর নাম না করে ওয়েইসিকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, "বিজেপির কথায়, বিজেপির টাকায় কিছু গদ্দার, নিজের ক্ষমতা দখলের জন্য বাংলায় এসেছে। বিহারে ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে জিতিয়েছে। এরা ডাকলেই যাবেন না। নমাজ শেষ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে আসবেন। কোনও চক্রান্তে পা দেবেন না। এটাই বিজেপি, অমিত শাহরা এটাই চায়। কিন্তু আপনারা শান্ত থাকুন।"
এরপর মমতা বলেন, ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, তার জন্য আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। তাই যাদের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষ লোকের নাম আবার তোলা হয়েছে। বাকিরাও আবেদন করুন। কোর্টের নির্দেশ মেনে চলুন।
নাম না করে ওয়েইসি-হুমায়ুনের জোটকে নিশানা মমতার
এদিন কে.ডি স্কুলের ময়দানের আগের সভাটি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় করেন সাগরদিঘীতে। সেখানে নাম না করে ওয়েইসি-হুমায়ুনের জোটকে নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, "হায়দরাবাদ থেকে কেউ উড়ে এল আর বিজেপি কয়েকটা গদ্দারকে টাকা দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল, আর আপনাদের দিয়ে রাস্তা অবরোধ করল, বিচারকদের ঘেরাও করল। তার ফলাফলটা কী হল?...এটা বিজেপির গেমপ্ল্যান। এখানকার নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা। আপনারা কি সেটা চান?"
এরপরই মমতার আর্জি, "যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, তাহলে দয়া করে কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। কোনও উত্তেজনায় পা দেবেন না। কোনও বিচারকদের কাছে গিয়ে ঝামেলা করবেন না। কারও কথায় এই সব করবেন না। কিছু লোক বিজেপির টাকায় হায়দরাবাদ থেকে উড়ে এসেছে, আর এখানে টাকা নিয়ে বাংলায় আপনাদের ভোট ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছে।"