
২০২১ সালের ভোটে বাংলার নজরে ছিল হাই প্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। সেই ভোটে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ছাব্বিশের ভোটেও আরও একবার সেই মমতা বনাম শুভেন্দু। যদিও এইবার বদলে গিয়েছে স্থান। নন্দীগ্রামের বদলে এবার ব্যাটেলগ্রাউন্ড ভবানীপুর। যদিও কেন্দ্র বদলে গেলেও এখনও নন্দীগ্রামকে ভুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ২০২১-এ মমতাকে 'চুরি' করে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই জয়ের পিছনে লোডশেডিংয়ের বড় হাত ছিল।
আবারও শিরোনামে লোডশেডিং
এই তো রবিবারই একটি কর্মীসভা করছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেখানে লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক করছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের বলেন, 'ভোট শেষ হয়ে গেলে সতর্ক থাকুন। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রং রুমে নজর রাখতে হবে।'
আর শুধু মমতা নয়, তাঁর দলের অনেক নেতাই বারবার শুভেন্দুর জয়ের পিছনে লোডশেডিংয়ের হাত দেখেছেন। তাই আরও একবার ফিরে যাওয়া যাক ২০২১ সালের ভোটের রেজাল্টের দিন। দেখে জেনে নেওয়া যাক লোডশেডিং বিতর্কের শুরুটা ঠিক কীভাবে হয়েছিল!
কী হয়েছিল সেই দিন?
২০২১ সালে শুভেন্দুর বিপরীতে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা। তাই সেই কেন্দ্রের দিকে বাড়তি নজর ছিলই। আর ২০২১ সালের ২ মে, ভোটের ফল ঘোষণার দিন এক নাটকীয় পটপরিবর্তন দেখে নন্দীগ্রাম।
সেই দিন সকাল থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। মাঝে মধ্যে একে অপরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্তায় বিকেলের দিকে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে মমতা ১২০০ ভোটে নন্দীগ্রাম আসন জিতে গিয়েছেন। তারপরই জানা যায় যে গণনা তখনও শেষ হয়নি।
এরপর গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, শুভেন্দু জিতে গিয়েছেন। তিনি মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছেন। আর এই জয়ের পরই লোডশেডিং তত্ত্ব সামনে আনে তৃণমূল কংগ্রেস।
মমতা নিজে এবং দলের অন্যান্যরা মিলিতভাবে অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় কারচুরি হয়েছে। শেষ পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করে লোডশেডিং করা হয়েছিল। যখন মমতা এগিয়ে ছিলেন, তখনই পরিকল্পিতভাবে অন্ধকার করে দিয়ে ভোটের ফলে কারচুপি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
যদিও এই দাবির পাল্টা দেয় বিজেপিও। তারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তিনি স্বচ্ছভাবেই জিতেছেন। তৃণমূল হেরে গিয়েই এই সব বলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পক্ষে, বিপক্ষে যাই মতামত থাকুক না কেন, এবারও ভোটের বাজারে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে লোডশেডিং। বিশেষত, তৃণমূলই এই ইস্যুকে সামনে আনছে। এখন দেখার এর কোনও প্রভাব জনমানসে পড়ে কি না। কর্মীরাও আলাদাভাবে সতর্ক থাকে কি না।