
জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে রণংদেহী মেজাজে দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, 'এতদিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি কোনও দিন এত খারাপ নির্বাচন কমিশন দেখিনি। এত অহঙ্কারী কেন এরা?' এরপরই তাঁর মন্তব্য, 'এদের অবস্থায় ধনখড়ের মতো হবে।' জ্ঞানেশের সঙ্গে সাক্ষাতে এদিন ঠিক কী ঘটল?
কমিশনের আধিকারিক সূত্রে খবর, এদিন প্রথম থেকে ভালই মিটিং চলছিল। জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর টিম তৃণমূলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনছিলেন। কিন্তু আচমকাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেবিল চাপড়ে উঠে পড়েন। তিনি মিটিং বয়কট করে বেরিয়ে আসেন। তাঁর পিছন পিছন বাকি প্রতিনিধিরাও বেরিয়ে আসেন নির্বাচন সদন থেকে। তবে মিটিংয়ে কোনও তর্কাতর্কি হয়নি বলেই কমিশন সূত্রে খবর।
এক ঘণ্টার বেশি সময় নির্বাচন সদনে বৈঠক করেন মমতা। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক সহ ১৫ জনের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে করে নির্বাচন সদনে নিয়ে গিয়েছিলেন SIR পীড়িত বেশ কয়েকজনকেও। বৈঠক শেষে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে আবার কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। মমতার অভিযোগ, BJP-র ইশারায় কাজ করছে কমিশন। এমনকী 'BJP-র দালাল' বলেও কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তোপ দেগে মমতা বলেন, 'কাদের জন্য এসব করছেন? মেয়ে-জামাইয়ের জন্য? যাতে তারা জেলাশাসক হয়ে যায়? যোগ্যতা থাকলে তো নিজেরাই হবে। পর্দার পিছনে কী আছে আমরা জানি না নাকি? আপনাকেও ভুগতে হবে। আপনার কাছে BJP-র শক্তি আছে, আমাদের কাছে জনতার ক্ষমতা আছে। ন্যায় পেতে এসেছিলাম আপনার কাছে। দিলেন শুধু মিথ্যের ফুলঝুরি।'
মমতার কটাক্ষ, 'আজকে BJP-র কথা শুনে কাজ করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ধনখড়জিও তাই করেছিলেন। আমাদের রাজ্যে রাজ্যপাল ছিলেন। আমাদের বিরুদ্ধে রোজ কথা বলতেন। তা-ও আমরা সম্মান করতাম ওঁকে। কিন্তু সেই সম্মান করারও একটা লক্ষণরেখা থাকে। এখানে তো কোনও লক্ষণরেখা নেই দেখছি। আপনার অবস্থাও ধনখড়ের মতো হবে।'