
পশ্চিমবঙ্গের SIR ইস্যুকে দিল্লির দরবারে নিয়ে চলে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তো গেলেনই, সঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় মৃতদের বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকদেরও নিয়ে গেলেন। মোদ্দা বিষয়, বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেনশিভ রিভিশনকে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের অন্যতম ন্যারেটিভ করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বোঝানোর চেষ্টা করলেন, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ায়।
দিল্লিতে মমতা বনাম নির্বাচন কমিশন
রবিবার রাতে দিল্লি গিয়েছেন মমতা। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছেন। মিটিং সেরে বেরিয়ে এসে দাবি করেছেন, 'আমাদের অপমান করা হয়েছে, হেনস্থা করা হয়েছে, তাই মিটিং বয়কট করে এসেছি।' যদিও কমিশনের দাবি, শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটিং চলছিল। হঠাত্ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেবিল চাপড়ে ওঠেন ও মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান।
৩৩ শতাংশ মানুষের নাম বাদ দেওয়া উচিত? প্রশ্ন মমতার
বিজেপি যখন পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলায় মুসলিম ভোটারদের প্রসঙ্গ তুললেন মমতা। বললেন, 'আমাদের মানতে হবে, বাংলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুদের বাস। এটা এখন নয়, সেই স্বাধীনতার সময় থেকেই। এটাই ইতিহাস, ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। আপনারা বলুন, ৩৩ শতাংশ মানুষের নাম বাদ দেওয়া উচিত? আমরা সব ধর্মের জন্য কাজ করি বাংলায়। সব ধর্মের উত্সব পালন করি। ৩৩ শতাংশ মুসলিম, তাদের আমি বলব, রাজ্য থেকে চলে যাও? আপনারা বলুন। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মের লোকই থাকবে? আমরা বাংলায় একটি পরিবারের মতো থাকি। সব ধর্ম, সব জাতির মানুষ মিলেমিশে থাকি।'
'বিজেপি মতুয়াদের ভোট পেয়েছে'
মমতার আরও সংযোজন, 'আপনাদের খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, একজন বাংলার ভোটার, ৩০ জন নয়ডা, গাজিয়াবাদের ভোটার। তার মানে আমাদের ভোটারদের ভোটদানের অনুমতি নেই? আমরা বলেছি, এটা ঠিক করুন। যারা বাংলার বৈধ ভোটার, তাদের ভোট দেওয়ার হক আছে। অসমে রিভিউ করছেন, বাংলার রাজবংশীকে নোটিশ পাঠাচ্ছেন! কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা- বিজেপি মতুয়াদের ভোট পেয়েছে, এখন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।'
এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব মমতা। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আরও ১১টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে বিজেপি বিরোধী সরকারও রয়েছে। কিন্তু মমতা যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছেন, বাকি বিরোধী দলগুলির আওয়াজে ততটা জোর নেই বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেন এসআইআর ইস্যুতে একজোট হতে দেখা যাচ্ছে না বিরোধীদের? সেই প্রশ্ন এড়িয়েই গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।