
'কলকাতার মধ্যে ফার্স্টবয় করতে হবে ভবানীপুরকে। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে নেত্রীকে'। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা, আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন লোডশেডিংয়ের কথা। স্ট্রংরুমে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের তৃণমূল নেতা, বুথ স্তরের এজেন্ট এবং কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করলেন অহীন্দ্র মঞ্চে। ঠিক করে দিলেন আগামীর রণকৌশল। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের প্রতিটি ভোটারের দরজায় পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন। লক্ষ্য স্থির করে দেওয়া হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ভোটের লিড। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আইনি সাহায্য দেওয়ার আশ্বাসও দিতে বলা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন অভিষেক। বার্তা দেন,'কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে ওরা। একবার নয় মানুষের কাছে তিনবার যান। দিদির ১০ প্রতিজ্ঞার কথা জানান'। যোগ করেন,'কলকাতার মধ্যে ফার্স্ট হতে হবে ভবানীপুরকে। ৬০০০০-এর বেশি ভোটে জিততে হবে।'
গতবার নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেবার তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে গরমিল করেছে বিজেপি। তৃণমূল নেত্রীর মুখেও শোনা গিয়েছিল একই কথা। কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্নও হয়েছিলেন। এবারও নেত্রীর আশঙ্কা, তেমন কিছু ঘটানো হতে পারে। তাঁর সাবধানবাণী,'সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রংরুমে নজর রাখবেন'।
এবার ভবানীপুর থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। দু’দিন আগেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৫,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে ভবানীপুরে। আরও ১৪,০০০ নাম বিবেচনাধীন তালিকায়। ২০২১-এর উপনির্বাচনে মমতা এখানে প্রায় ৫৮,০০০ ভোটে জিতেছিলেন। তার আগে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৮,০০০। ভোটার তালিকায় এই বড় রদবদল ভবানীপুরের সমীকরণকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। রবিবারের বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। ২৪ মার্চ সেখানে তাঁর তিনটি জনসভা করার কথা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই দিন থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রচারে নামছেন।