Advertisement

Mamata Banerjee Supreme Court : 'বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে', কোর্টে হাতজোড় মমতার, কী বললেন দেশের প্রধান বিচারপতি?

তিন বিচারপতি কক্ষে আসা মাত্র আর সবার মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উঠে দাঁড়ান। তিনি পিছনের চেয়ারে ছিলেন। সেখান থেকে উঠে এসে আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ও গোপাল শঙ্কর নারায়ণের পাশে এসে দাঁড়ান। মমতার পাশেই ছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। 

সুপ্রিম কোর্টে মমতাসুপ্রিম কোর্টে মমতা
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 04 Feb 2026,
  • अपडेटेड 3:09 PM IST
  • সুপ্রিম কোর্টে SIR শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  • বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই শুনানি হয়

সুপ্রিম কোর্টে SIR শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই শুনানি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন শ্যাম দিওয়ান। এক নম্বর এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। তিনি সওয়াল করেননি। তবে আবেদনকারী হিসেবে নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন। 

নিয়ম অনুযায়ী, সেই সব আইনজীবীই সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে পারেন, যাঁদের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাতে নাম রয়েছে। ফলে আবেদনকারী হিসেবেই তাঁকে আদালতে থাকতে হল। তাঁর গলায় ছিল একটা কালো শাল। 

তিন বিচারপতি কক্ষে আসা মাত্র আর সবার মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উঠে দাঁড়ান। তিনি পিছনের চেয়ারে ছিলেন। সেখান থেকে উঠে এসে আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ও গোপাল শঙ্কর নারায়ণের পাশে এসে দাঁড়ান। মমতার পাশেই ছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্য়াম দিওয়ান আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করতে শুরু করেন। তাঁদের মামলা কেন, কীসের ভিত্তিতে, কোন কোনও অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বলতে শুরু করেন বিচারপতিদের। একইসঙ্গে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি করা হোক- এই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় আইনজীবীর তরফে। বিচারপতিরা অনুপতি দেন। 

শুনানিতে কী হল-কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? 

এরপরই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে চান। তিনি বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা যদি অনুগ্রহ করে অনুমতি দেন, তাহলে আমি আমার বক্তব্য পেশ করতে পারি।' 

নির্বাচন কমিশন : আমাদের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কেবলমাত্র বানান ভুলের জন্য নোটিশ জারি করা যাবে না। 

CJI : রাজ্যের প্রধান এগজিকিউটিভ এখানে উপস্থিত রয়েছেন। যদি রাজ্য বাংলার বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বসে তাহলে কী হবে? 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : আমি এই গোটা বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে পারি। যদি আপনি আমাকে অনুমতি দেন। 

CJI : আপনি সেখানকার বাসিন্দা, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। 

Advertisement

মমতা : আমাকে কথা বলতে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমাকে ৫ মিনিট কথা বলতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।

CJI : ৫ মিনিট কেন, আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।

মমতা : আইনজীবীরা সব সময় মামলার জন্য লড়াই করেন। আমরা ন্যায় বিচার যখন পাই না, তখন দাঁড়াতেই হয়। আমরা কমিশনকে ৬ টা চিঠি পাঠিয়েছি। কোনওটার উত্তর পাইনি।

মমতা : আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন ব্যক্তি। আমি একজন শ্রমিক। আমি দলের জন্য লড়ছি না। আমার লড়াই সাধারণ মানুষের জন্য। 

CJI : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সেখানে সেরা সেরা আইনজীবীরা উপস্থিত রয়েছেন। মিস্টার সিব্বল, দিওয়ানের মতো আইনজীবীরা আছেন। 

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করেন। 

CJI : দত্ত, গাঙ্গুলি ইত্যাদির নামের বানান এখন আলাদা আলাদা করা হচ্ছে। আমরা এটাও জানি না যে, ঠাকুরের বানান কীভাবে লেখা হয়। এক একজন এক এক রকম ব্যবহার করে থাকে। 

মমতা : আপনি অনুমতি দিলে আমি আপনাকে বাংলা সংবাদপত্রেরর কয়েকটি ছবি দেখাতে পারি। 

মমতা : SIR প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম বাদ চলে যাচ্ছে। বিয়ের পর কোনও মেয়ের পদবী বদলালে তার নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আবার মানুষ কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যায়। স্থান পরিবর্তন করলেও নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। বাংলার মানুষ খুশি যে, আধার কার্ডকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে আদালত। অথচ এখনও বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। 

মমতা : ২৪ বছর পর মাত্র ৪ মাসের মধ্যে এত তাড়াহুড়ো কেন। সাধারণ মানুষ যখন উৎসবে মেতেছিল তখন নোটিশ জারি করা হয়েছে। 

মমতা : নির্বাচন কমিশন ERO, AERO দের কথা শুনছে না। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে ৩৮০ অবজার্ভার নিয়োগ করেছে। তারা নির্বাচন কমিশন অফিসে থাকা নাম মুছে ফেলতে পারে। প্রথম ধাপে তো ৫৮ লাখ মানুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এত মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। 

CJI : প্রয়োজনে আমরা নির্দেশ দেব, প্রতিটি নোটিশ যেন BLO কর্তৃক অনুমোদিত হয়। 

মমতা : মাইক্রো অবজার্ভাররা নাম মুছে ফেলছে। এটা হতে পারে না। ওরা সবাই তো বিজেপি শাসিত রাজ্যের লোক। ওরা আমাদের এখানকার বাসিন্দাদের স্থানীয় শংসাপত্রকে মান্যতা দিচ্ছে না। 

এরপর নির্বাচন কমিশন অভিযোগ করে, রাজ্য সরকারের চাপের মধ্য়ে থেকে কাজ করছে কমিশনের কর্মীরা। তাদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। কমিশন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছে বাধ্য হয়ে।

মমতা : SIR-এর কারণে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেন বাংলাকে টার্গেট করা হল? কেন অসম বা উত্তর পূর্বের রাজ্যে SIR হচ্ছে না? 

এরপরই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন মমতা। বলেন, 'আপনারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আপনারা যা যা চেয়েছেন, সব দেওয়া হয়েছ।' 

CJI : সোমবার এই বিষয়টি কোর্টে ফের উঠবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রুপ বি কর্মকর্তাদের তালিকা দেবে। 

এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অফিসারদের তালিকা জমা দিতে হবে। যদি পর্যাপ্ত লোক থাকে তাহলে মাইক্রো অবজার্ভার নাও প্রয়োজন হতে পারে। 

মমতা : আমার নিবেদন, পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। 

এরপর মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে whatsapp কমিশন বলে আক্রমণ করেন। 

Read more!
Advertisement
Advertisement