
বইমেলাতেও SIR হয়রানির ইস্যু তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও তিনি রাজ্যে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মানসিক চাপ এবং আতঙ্কের পরিবেশের বর্ণনা দেন। জানান, এখনও পর্যন্ত SIR-এর জন্য রাজ্যে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই ইস্যু নিয়েই এবারের বইমেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন বই 'SIR'।
৪৯তম বইমেলায় মোট ৯টি নতুন বই প্রকাশিত হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অর্থাৎ তাঁর বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১৬২। তবে এবার 'হটকেক' হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা কবিতার বই 'SIR'। তিনি জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারে বসে ২ দিনে তিনি ২৬টি কবিতা লিখে ফেলেছিলেন। সেই কবিতার সংকলনই এই 'SIR' বইটি। যেখানে SIR প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানি, যন্ত্রণার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, SIR শুনানির জন্য বহু মানুষ, যার মধ্যে প্রবীণরাও রয়েছেন, প্রতিদিন খোলা আকাশের নীচে ৫-৬ ঘণ্টা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নির্বাচন কমিশন বহুদিন ধরে পরিচিত ও স্বীকৃত বাঙালি পদবিগুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আমি নিজে মমতা ব্যানার্জি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই নামেই পরিচিত। একই ভাবে চট্টোপাধ্যায় এবং চ্যাটার্জিও একই পদবি। ঠাকুর পদবিও ব্রিটিশ আমলে টেগোর হয়ে গিয়েছিল।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো তাঁকেও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।' তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক সন্তানের বাবা-মায়েদের সন্তানদের বয়সের ব্যবধান নিয়ে ব্যাখ্যা চাইছে কমিশন। এমনকী প্রবীণদের কাছেও জন্ম শংসাপত্র দাবি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের মায়েরা অনেকেই তাঁদের সঠিক জন্মতারিখ বলতে পারেন না। এমনকী অটল বিহারী বাজপেয়ীজিও আমাকে বলেছিলেন, ২৫ ডিসেম্বর তাঁর প্রকত জন্মদিন নয়। আমার নিজের জন্মতারিখ প্রমাণ করার জন্য মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট আছে। কিন্তু আগের প্রজন্মের বহু মানুষের কাছে এ ধরনের নথি নেই। তাহলে কেন তাঁদের হয়রানি করা হবে?'