
গত কয়েক মাসে SIR আশঙ্কায় বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কোথাও অভিযোগ উঠেছে আত্মহত্যার। এরকমই ১০০-রও বেশি পরিবারের সদস্যকে দিল্লি নিয়ে গেছে তৃণমূল। তাঁদের রাখা হয়েছে বঙ্গভবনে। যা সোমবার সকাল থেকেই ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেককে নিয়ে সেই সমস্ত পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করতে বঙ্গভবনের পৌঁছে যান মমতা।
১৮১ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকালে বঙ্গভবনে পুলিশ মোতায়েনের খবর পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'অমিত শাহ কলকাতায় এলে রেড কার্পেটে স্বাগত জানানো হয় আর আমরা গেলে ব্ল্যাক কার্পেট?' পুলিশ বঙ্গভবন ঘিরে ফেলার খবর পেয়েই ঘরের শাড়িতেই সেখানে পৌঁছন মমতা। সঙ্গে ছিলেন অভিষেকও।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ এই পরিবারের সদস্যদের নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করা হবে। কিন্তু তার আগে এভাবে পুলিশ মোতায়েন করা অন্যায়। মমতার কথায়, 'এটা যেন ভেবে না নেওয়া হয় ওদের নির্দেশে আমরা বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি নেব। আমাদের চ্যালেঞ্জ করবেন না। আমরা ডেঞ্জারাস হয়ে উঠতে পারি। আমাদের মাসেল পাওয়ার দেখাবেন না। কেউ লড়াই না করলেও এ দেশে আমি লড়াই করব। ওরা এখানে এসেছে জানাতে কীভাবে SIR-এর জন্য তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। দিল্লির লোকেরা তো জানে না কী অত্যাচার হচ্ছে বাংলার মানুষের সঙ্গে।'
দিল্লি পুলিশের কাছে তাঁর আর্জি, 'আমি দিল্লিতে আসি না। মিটিং রয়েছে বলে এসেছি। আমার দিল্লি পছন্দ নয়। যতদিন এই সরকার আছে এখানে আসতে ভাল লাগে না। এতগুলো বছর সাংসদ এবং মন্ত্রী হিসেবে দিল্লিতে এসেছি, এমন পুলিশি অতিসক্রিয়তা কখনও দেখিনি। আপনাদের কাছে অনুরোধ ওদের ভয় দেখাবেন না। এত পুলিশ ঘিরে থাকলে ওরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।'
বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি দিল্লিতে এলেই এরা ভয় পেয়ে যায়। দিল্লিতে গরিব মানুষের জন্য কোনও জায়গা নেই, জমিদারি চলছে এখানে।'