
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আলোচনার পর এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজ্যে মোট ৫০০-রও বেশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তার মধ্যে ২৪০ কোম্পানি ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছে। তাদের মোতায়েনও করা হয়েছে। বাকি বাহিনীর আসার কথা ১০ মার্চের মধ্যে।
সূত্রের খবর, এই বিপুল সংখ্যক বাহিনী শুধু ভোটের দিন নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সময়টাই রাজ্যে মোতায়েন থাকবে। ভোটের আগে, ভোট চলাকালীন এবং ভোটের পর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ২৪০ কোম্পানি বাহিনীকে বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। ১০মার্চ বাহিনী আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরও মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনী রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করবে।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী অংশ নিচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে CRPF, BSF, ITBP, CISF, SSB এবং অসম রাইফেলস। মোট বাহিনীর মধ্যে CRPF-এর ২৩০ কোম্পানি, BSF-এর ১৬০ কোম্পানি, ITBP-এর ৪৭ কোম্পানি, SSB-এর ৪৬ কোম্পানি এবং CISF-এর ৩৭ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য আসার পর তাদের কর্মকর্তাও বঙ্গে এসেছিলেন। দ্বিতীয় দফাতেও নিজ নিজ ইউনিট থেকে রাজ্যে আসবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা।
নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করতে প্রথম ধাপেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় প্রথম দফায় বাহিনী রাখা হয়েছে। এই ধাপে CRPF-এর ১১০ কোম্পানি, BSF-এর ৫৫ কোম্পানি, CISF-এর ২১ কোম্পানি, ITBP-এর ২৭ কোম্পানি এবং SSB-এর ২৭ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই বিশাল বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।