Advertisement

Nandigram Suvendu Vs Pabitra: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে 'ওয়াকওভার'? পবিত্র করের পিছনে তৃণমূলের যে রণকৌশল

কর্মী-সমর্থকরা তো বটেই, বিজেপি রাজ্য শমীক ভট্টাচার্যও কটাক্ষের সুরে বলেছেন,'আমি তো শুনলাম নন্দীগ্রামে বিরাট কেউ হেভিওয়েট নির্বাচনে লড়বে। শেষপর্যন্ত ইনি!'

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী বনাম পবিত্র কর।নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী বনাম পবিত্র কর।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 19 Mar 2026,
  • अपडेटेड 1:53 AM IST
  • শুভেন্দু অধিকারীর 'রাজনৈতিক শিষ্য' নন্দীগ্রামের পবিত্র কর।
  • নন্দীগ্রামে কী খেলা তৃণমূলের?

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কে? মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার আগে থেকে এ প্রশ্নই ঘুরছিল নেটমাধ্যম থেকে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে। জল্পনা চলছিল, হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে চলেছে ঘাসফুল শিবির। বেলা গড়াতেই জল্পনার স্রোতে বাঁধ! দুপুরে তৃণমূলে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারীর 'রাজনৈতিক শিষ্য' নন্দীগ্রামের পবিত্র কর। অভিষেককে জড়িয়ে ধরার তাঁর ভিডিও এল প্রকাশ্যে। বিকেলে প্রার্থী তালিকায় দেখা গেল, নন্দীগ্রামে প্রার্থী তিনিই। তারপরই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বলতে শুরু করলেন,'ওয়াকওভার দিয়ে দিল তৃণমূল'! কারও মন্তব্য,'বলির পাঁঠা'। 

রাজ্য রাজনীতিতে গুরু-শিষ্যর লড়াই নতুন নয়- অধীর চৌধুরী বনাম অপূর্ব সরকার, অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বনাম শঙ্কর ঘোষ। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী বনাম পবিত্র কর। তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এমনটা একটা বার্তা দিচ্ছেন, যেন লড়াইয়ে জিতেই গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একবার নীচের গ্রাফিক্সে চোখ বোলালেই বুঝতে পারবেন।

সোশ্যালে নানা কথা।

   

কর্মী-সমর্থকরা তো বটেই, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও স্বভাবসিদ্ধ কটাক্ষের সুরে বলেছেন,'আমি তো শুনলাম নন্দীগ্রামে বিরাট কেউ হেভিওয়েট নির্বাচনে লড়বে। শেষপর্যন্ত ইনি! আসলে ডোবার সময় মানুষ খড়কুটো ধরেই বাঁচতে চায়। তৃণমূল এখন ডুবন্ত নৌকো। নন্দীগ্রামে গতবারের চেয়ে বেশি মার্জিনে জিতবেন বিরোধী দলনেতা। ভবানীপুরও জিতবেন'। 

এবার প্রশ্ন হল, সত্যিই কি খেলা ছেড়ে দিল তৃণমূল? নাকি এটা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক রণকৌশল? বিরোধী দলনেতার মতো তৃণমূলে ছিলেন পবিত্র কর। শুভেন্দুর বিজেপিতে নাম লেখানোর পরই তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগদান। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিও করেন। আর এটাই হল তাঁকে প্রার্থী করার মূল রহস্য। অন্তত রাজনৈতিক মহলের তেমনটাই মত। তাঁরা বলছেন, গতবার ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে মমতার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু ভোটের অধিকাংশই নিজের ঝুলিতে পুরতে সক্ষম হয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের বয়াল ১ এবং ২ নম্বর অঞ্চলের কিয়দংশ হিন্দুর ভোটই ছিল শুভেন্দুর দিকে। বিরাট লিড পেয়েছিলেন। সেই বয়াল অঞ্চলেরই নেতা পবিত্র কর। 

Advertisement

হিসেবটা সোজা, হিন্দু ভোটে ভাঙন ধরাতে পারলেই কেল্লাফতে! সেই ছক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী একটি মন্তব্যেও। টিকিটপ্রাপ্তির পর পবিত্র বলেছেন,'আমি আজও সনাতনী। ভবিষ্যতেও থাকব। হিন্দুত্ব বলতে ভারতীয়ত্ব। কোনও নির্দিষ্ট জাতিকে আক্রমণ করা হিন্দুত্ব নয়। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে'। প্রণিধানযোগ্য, তৃণমূল নেতাদের ভাষ্যে এমন হিন্দুত্বের সঙ্গে ভারতীয়ত্বের যোগ শোনা যায় না! 

বিরোধীরা অবশ্য বলছে, এটা তৃণমূল-বিজেপির 'গটআপ' ম্যাচ। শুভেন্দুকে বার্তা দেওয়া হল, 'নন্দীগ্রামটা তোমার। ভবানীপুরটা আমার'। কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরীর কথায়,'এতে আমরা এতটুকুও অবাক নই। দুই দলই লোক দেখানো লড়াই করছে। আরএসএসের দুটো শাখা তৃণমূল আর বিজেপি। পুরোটাই নাগপুরের চিত্রনাট্য মেনেই হচ্ছে'।

Read more!
Advertisement
Advertisement