
রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ইস্যুতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের। এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য এসডিএম পদমর্যাদার অফিসারদেরই (সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট) ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হল বলে জানান হয়েছে। এখন থেকে সারা দেশের নিয়ম মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও এসডিএম সমমর্যাদা বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এর থেকে নীচের পদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না বলে জানান হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে খবর, এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার সারা দেশের নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদারা অধিকারিকদের ইচ্ছামতো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেই তালিকা পাঠান হতো নির্বাচন কমিশনের কাছে। কিন্তু এবার থেকে আর সেই জিনিস চলবে না। বরং আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনেক বেশি কঠোর হয়েছে বলে খবর।
বৃহস্পতিবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এসডিএম সমমর্যাদা বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এর থেকে নিম্ন পদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না।
কমিশন সূত্রে দাবি, নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক অনুরোধ এবং সুপ্রিম কোর্টের কঠোর মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসার পদে নিয়োগযোগ্য পর্যাপ্ত সিনিয়র আধিকারকিদের তালিকা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের তালিকার উপর ভিত্তি করেই নির্বাচন কমিশন যাচাই করেছে। তারপর আরও বা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৪৩৪/WB-LA/২০২৬ (১)-এ বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর (ধারা ২১) বিধান অনুযায়ী এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩-এর বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৪৩৪/WB-LA/২০২৩ (১)-কে বাতিল করে, ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তালিকার কলাম (২)-এ উল্লেখিত সরকারি কর্মকর্তাদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনোনীত করেছে।
মাথায় রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গে কিছুদিন আগেই এসেছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই দলে ছিলেন দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিস্থিতি যাচাই করে দেখে। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই কথা বলে। সেই সঙ্গে পুলিশ, প্রশাসন সবার সঙ্গে করে বৈঠক।
এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দেন, কমিশন এবার মুক্ত এবং অবাধ নির্বাচন করতে চাইছে। ভোটের সময় কোথাও যাতে হিংসা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে। সেই মতো একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা করা হবে।
এমতাবস্থায় আবার রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এসডিএম বা তার উচ্চ পদমার্যাদার আধিকারিকদেরই এক্ষেত্রে নিয়োগ করা হচ্ছে।