Advertisement

মোদীকে নিশানায় মমতা বিঁধলেন SIR ইস্যুতে, সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে কী হল?

মাঝখানে ঠিক ১০ দিনের ব্যবধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর সিঙ্গুরে সভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ফলে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনে সিঙ্গুর ও শিল্পই হতে চলেছে ভোটের ময়দানের বিশেষ ঘুঁটি। কিন্তু আদতে কী হল?

মোদীর হাতিয়ার অনুপ্রবেশ, মমতার শান SIR-এ, সিঙ্গুরে শিল্পের কী হল?মোদীর হাতিয়ার অনুপ্রবেশ, মমতার শান SIR-এ, সিঙ্গুরে শিল্পের কী হল?
Aajtak Bangla
  • সিঙ্গুর,
  • 28 Jan 2026,
  • अपडेटेड 3:32 PM IST
  • নরেন্দ্র মোদীর পর সিঙ্গুরে সভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
  • অনেকেই মনে করতে শুরু করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনে সিঙ্গুর ও শিল্পই হতে চলেছে ভোটের ময়দানের বিশেষ ঘুঁটি।
  • মোদীর সভা থেকে শিল্প নিয়ে কী পাওয়া গিয়েছিল?

মাঝখানে ঠিক ১০ দিনের ব্যবধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর সিঙ্গুরে সভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ফলে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনে সিঙ্গুর ও শিল্পই হতে চলেছে ভোটের ময়দানের বিশেষ ঘুঁটি। কিন্তু আদতে কী হল?

মোদীর সভা থেকে শিল্প নিয়ে কী বার্তা পাওয়া গিয়েছিল?

টাটার সেই বিতর্কিত ন্যানো কারখানার জমিতে দাঁড়িয়েই সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প স্থাপনের জন্য বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে কার্যত 'নীরব' ছিলেন নমো। তিনি শুধু বলেছিলেন, বাংলায় শিল্প আনতে বিজেপিকে দরকার। কিন্তু এর বাইরে শিল্প নিয়ে আর মুখ খোলেননি নরেন্দ্র মোদী। ফলে আশাহত হয়েছে সিঙ্গুরবাসী।

বরং সিঙ্গুর থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদী তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, "পশ্চিমবঙ্গের, এমনকি দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ছেলেখেলা করছে তৃণমূল সরকার। তাই যুবসমাজকে বিশেষ করে সাবধানী হতে হবে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা করে দিচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্নায় বসে। মনে রাখবেন, অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের আসল ভোটব্যাঙ্ক। তাই অনুপ্রবেশকারীদের এত পছন্দ করে তৃণমূল। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে সবকিছু করতে পারে।" 

এক্ষেত্রে মোদীর দাওয়াই ছিল, "সময় এসে গিয়েছে, অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ ভাবে ঠেকাতে হবে। আর যাঁরা জাল নথি বানিয়ে যাঁরা এখানে মিশে গিয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করে নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। এই কাজ কে করতে পারে? আপনাদের একটি করে ভোট এই কাজ করতে পারে। আপনাদের ভোটের শক্তি...আপনাদের ভোট স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারে। বিজেপি-কে দেওয়া আপনাদের এক-একটি ভোট অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে পারে। তাই একই সুরে, একই সঙ্কল্প নিতে হবে এবার, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।" 

মমতার সভা থেকে কী পেল সিঙ্গুর?

মোদীর সভার ঠিক ১০ দিন পর সিঙ্গুরে মমতার সভাকে নিঃসন্দেহে কাউন্টার সভা বলা যেতে পারে। তবে মমতা শিল্প নিয়ে কী বললেন? অনেকেই আশা করেছিলেন, সিঙ্গুর থেকে নতুন শিল্প নিয়ে বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মমতা সিঙ্গুর থেকে কী বললেন?

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। সেখানে ২৮টি প্লটের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫টি বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, "কৃষিও চলবে, শিল্পও চলবে। তবে কারও জমি কেড়ে নয়।"

এর পাশাপাশি সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমিতে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট সেখানে ওয়্যারহাউস তৈরি করছে। মমতা বলেন, "হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমরা মুখে বলি না, কাজে করি।"

তবে সিঙ্গুর থেকে মমতা অনেক বেশি জোর দিলেন SIR-এ। এদিনের সভা থেকেও SIR নিয়েই কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি প্রশ্ন করেছেন, SIR-এর ফলে রাজ্যে যে এত পরিমাণ মৃত্যু ঘটল, তার দায় কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "SIR-এর নামে NRC করে মানুষকে হত্যা করার যে চক্রান্ত করছে, তাদের ধিক্কার জানাই।" পাশাপাশি SIR নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে দুটি কবিতাও পাঠ করেন মমতা।

SIR-এর পাশাপাশি সিঙ্গুর থেকে NRC নিয়েও হুঙ্কার দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন "আপনারা কেন ভয় পাচ্ছেন?দয়া করে কেউ আত্মহত্যা করবেন না। ডেকে পাঠাচ্ছে, পাঠাতে দিন। বাংলায় কোনও NRC হবে না। কারও নাম বাদ যাবে না।"

বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতির দুই অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্ব সিঙ্গুর থেকে এসে সভা করলেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন শিল্প নিয়ে নতুন কোনও বার্তা এল কই? তবে কি 'শিল্প' আর 'সিঙ্গুর' এই সমার্থক শব্দ এখন অতীত? ছাব্বিশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র সিঙ্গুর ও শিল্প একথা কি আদৌ আর বলা যাচ্ছে? নাকি SIR-অনুপ্রবেশ ও সর্বোপরি ধর্মের দড়ি টানাটানি নিয়েই হতে চলেছে বঙ্গের ছাব্বিশের নির্বাচন? উত্তর মিলবে আর কয়েক মাস পরেই।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement