
নিজে বিধানসভার প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা করেছিলেন। তবে মেলেনি টিকিট, পছন্দ হয়নি প্রার্থীও। আর তাই অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুক্রবার সটান BJP পার্টি অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন রিঙ্কু মজুমদার। অসন্তুষ্ট হয়ে কি এবার তবে দলবদল করবেন? bangla.aajtak.in-এ বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষের স্ত্রী।
রিঙ্কু বলেন, 'কথা বলতে গিয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথা কথা হয়েছে। শমীকবাবু প্রেস মিট করছিলেন, ব্যস্ত ছিলেন। ওঁকে একবার দেখলাম, খুব দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাই আর বিরক্ত করিনি।' কোন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ জানাতে শুক্রবার সল্টলেকের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন রিঙ্কু? তাঁর কথায়, 'আমি নির্দিষ্ট ভাবে নিউটাউন বিধানসভা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেই গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে দেখলাম অন্যান্য জায়গার কর্মীরাও গিয়েছিলেন। আমার বিধানসভার প্রার্থী সঠিক নয়।'
উল্লেখ্য, রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার BJP টিকিট দিয়েছে পীযূষ কানোড়িয়াকে। একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে রিঙ্কু মজুমদার বলেন, 'আমরা কোনওরকম ক্রাইম করি না, আর ক্রাইম মেনেও নেব না। যাঁরা টিকিট দিয়েছেন, তাঁরা না-ও জানতে পারেন সবটা। আমাকে যদি না-ও প্রার্থী করেন, আরও তো অনেকে আছেন। নিউটাউন বিধানসভায় যাঁরা বাস করেন, এরকম কাউকেও তো দিতে পারত। ফ্রেশ প্রার্থী হতো তাহলে। যে একবার BJP, একবার TMC, আবার BJP করে বেড়ায়। যাঁর কোটি কোটি টাকার ঋণ। ১০ কোটি টাকার ঋণ শোধ করছে না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন না, তাই জানাতে গিয়েছিলাম।'
সল্টলেক BJP দফতরে বিক্ষোভ সামাল দিতে কড়া মেজাজে দেখা যায় রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তিনি বলেন, 'আমি একটা সময় পর্যন্ত টলারেট করব, তারপর আর করব না। নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।' এ প্রসঙ্গে রিঙ্কুর মন্তব্য, 'আমরা অন্যায় করি না, নিতেও পারি না। প্রতিবাদ জানানো উচিত মনে করেছি, তাই জানিয়েছি। যদি মনে করি পরিবেশ সুস্থ নয় তবে চুপ হয়ে যেতে হবে। সরে যেতে হবে। যখন কোনও কিছু পাল্টাতে পারব না, তখন নিজেকে পাল্টে ফেলতে হবে।'
তবে কি দলবদল করবেন দিলীপ জায়া? রিঙ্কু বলেন, 'দল কেন পাল্টাব? নিজেকে পাল্টে ফেলব। আমরা ওই আদর্শে বিশ্বাস করি না। ভদ্রলোকের একটাই ফোন নম্বর, একটাই ঠিকানা হয়। সেগুলো বদলায় না। ভদ্রলোকের একটাই অভিভাবক হয়। সেটা চেঞ্জ করতে পারে না। প্রতিবাদ করা বন্ধ করে দিতে পারে, আবদার করা বন্ধ করে দিতে পারে।'
অপছন্দের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতেও চান না রিঙ্কু। তিনি বলেন, 'না প্রচার করব না। আমি কি নিজে ক্রিমিনাল নাকি! আমার কি সেল্ফ রেসপেক্ট নেই নাকি! অভিযুক্ত তো নেই যে ক্রিমিনালের সঙ্গে প্রচার করতে যাব। পার্টিকে ভালোবাসি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এসেছিলাম। আমাদের একটা মিশন ছিল। আমাদের যদি কোনও ভূমিকা না থাকে তাহলে ঘরে বসে যাব।'
তবে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে প্রচারে যাবেন বলেই জানালেন রিঙ্কু মজুমদার। তিনি বলেন, 'আমায় যদি অনুমতি দেন, যদি নিয়ে যান আমি নিশ্চয়ই ওর হয়ে প্রচার করব। কিন্তু আমি আত্মসম্মান নিয়ে থাকতে ভালোবাসি। তবে এই প্রার্থীর হয়ে একদমই প্রচার করব না।'